সরিষাবাড়ীর সাধারণ মানুষের উন্নয়নই আমার রাজনীতি: প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)
এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল।

সরিষাবাড়ীর সাধারণ মানুষের উন্নয়নই আমার রাজনীতি: প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল

প্রকাশিত :০১.১১.২০১৮, ৪:৪২ অপরাহ্ণ

প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল জামালপুর-৪, সরিষাবাড়ী আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। বাবা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল মালেক, সাবেক এমপি। ছিলেন জনমানুষের নেতা। বাবার হাত ধরেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দীক্ষিত হওয়া। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পানিসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। সরিষাবাড়ীর সঙ্কট ও সম্ভাবনা, উন্নয়ন রুপকল্প, তরুণ সমাজ ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ‘আজ সারাবেলা’র সঙ্গে কথা বলেছেন প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল ।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জববার হোসেনরবিউল ইসলাম রবি

আজ সারাবেলা : আপনার বাবা আওয়ামী লীগের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ছিলেন। দু’বার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার আগ্রহ কি সেখান থেকেই?

প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল: আসলে বাবা-মা আর পরিবার মানুষকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। একটা আওয়ামী পরিবারে আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন আমৃত্যু সৈনিক। ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক নানা কর্মকাণ্ড দেখে বড় হয়েছি। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ও আদর্শ জেনেছি খুব ছোটবেলা থেকে। তখন থেকেই রাজনীতিবিদ হবার একটা সুপ্ত বাসনা মনের মধ্যে ছিল। ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলাম খুব তরুণ বয়সে। পরে মেরিন একাডেমিতে উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্ত হই। কিন্তু আওয়ামী লীগের আদর্শের সঙ্গে যে যুক্ততা তা থেকে কখনও বিযুক্ত হইনি। যে পেশায় আমি ছিলাম, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, সেখানে চার মাস ছুটি। আমি সেই ছুটির পুরোটা সময় এলাকার রাজনীতিতেই সময় দিতাম।

আজ সারাবেলা: আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেন কবে থেকে?

প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল: ২০০১ সালের পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলাম। পরবর্তীতে উপজেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি, এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পানিসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।

আজ সারাবেলা: আপনার নির্বাচনী এলাকা জামালপুর-৪। এই এলাকার মানুষের সমস্যা ও সঙ্কট কতখানি চিহ্নিত করতে পেরেছেন?

প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল: জামালপুরের সরিষাবাড়ী একসময় খুব সমৃদ্ধ ছিল। বিশেষ করে ’৭০ দশকের সময়টা। পাটের জন্য সরিষাবাড়ীকে দ্বিতীয় ড্যান্ডি বলা হত। কিন্তু সেই জৌলুস এখন আর নেই। মিল কারখানার অনেকই বন্ধ। এখানে নৌ-বন্দর রয়েছে। সরিষাবাড়ী অনায়াসে উত্তরবঙ্গের ‘বিজনেস হাব’ হতে পারতো।

অনেক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে কিন্তু তা সঠিক ও কার্যকর নেতৃত্ব ও পরিচালনার অভাবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এখানে ইপিজেড হওয়া সম্ভব। সম্ভব অনেকগুলো মিল কারখানা হওয়া। বেকার তরুণ, আজ যারা মাদকের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, কাজের সুযোগ পেলে তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে, তাই বেকারের হাত কর্মীর হাতে পরিণত করতে চাই। সরিষাবাড়ীর সাধারণ মানুষের উন্নয়নই আমার রাজনীতি।

নির্বাচনী জনসভা শেষে গণসংযোগ করছেন প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল।

আজ সারাবেলা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর ৪, সরিষাবাড়ী আসন থেকে আপনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। জনগণ কেন আপনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, নিজেকে কীভাবে আলাদা করবেন?

প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল: আমার বাবা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল মালেক সাহেব। যিনি সরিষাবাড়ী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। রাজনৈতিক পরিবার হিসেবে আমাদের কোনো ‘ইমেজ সঙ্কট’ নেই। কখনও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে, বিএনপি-জামাত যখন ক্ষমতায় তখন বাড়ি-বাড়ি গিয়ে কর্মী সংগ্রহ করেছি। মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের জামিনের জন্যে কোর্টের বারান্দায় দৌড়ে বেরিয়েছি।

আওয়ামী লীগে দুঃসময়ে আমাদের যে ভূমিকা ও ত্যাগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার না করার প্রবণতা- এসব বিবেচনায় আমি মনে করি, সরিষাবাড়ীর মানুষের আমার ও আমার পরিবারের প্রতি এক ধরনের সমর্থন ও ভালোবাসা রয়েছে।

আজ সারাবেলা: আপনি দলীয় নেতাকর্মীর জন্য কাজ করেছেন। তাদের দুঃসময়ে পাশে থেকেছেন কিন্তু সরিষাবাড়ীর সাধারণ মানুষের জন্য আপনার অবদান কী?

প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল: আমার বাবা মানুষের জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। তাকে দেখে, অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে এসেছি। মানুষ মানুষের জন্য- এই শিক্ষাটা আমাকে বাবাই দিয়েছেন। যখন কেউ আর্থিক অসঙ্গতির কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তার পাশে থেকেছি। কারো যখন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, সহযোগিতা করেছি। চেষ্টা করেছি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে। এখানকার প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে ‘হাফেজিয়া মাদ্রাসা’ তা আমার বাবারই প্রতিষ্ঠিত। সেখানে একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

তরুণদের মাদকের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতে অনেক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় দুস্থ মানুষদের পাশে থেকেছি সবসময়। আমি সরিষাবাড়ীর মানুষের পাশে ছিলাম এবং থাকতে চাই সবসময়।

আজ সারাবেলা: এই নির্বাচনে অনেক নতুন ভোটার যুক্ত হচ্ছেন যারা মূলত তরুণ। এই তরুণদের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?

প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল: তরুণরা শুধু এলাকা নয়, দেশ গঠনে একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। তরুণরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়- বিষয়গুলো বরাবরই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাই। কর্মসংস্থানের সুযোগ না হলে তরুণরা বিপদগামী হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়ের অনুপ্রেরণায় সরিষাবাড়ীকে শতভাগ আধুনিক ডিজিটাল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই এলাকার তরুণরা তথ্য প্রযুক্তিতে অবদান রেখে যেন দক্ষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে- তার সকল প্রচেষ্টা সবসময় আমার থাকবে। বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আউটসোসিং, প্রোগ্রামিংসহ তথ্য প্রযুক্তির সকল কাজের সুযোগের ব্যবস্থাও করে দিতে চাই।

নির্বাচনী আসনে গণসংযোগ করছেন প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল।

আজ সারাবেলা: আওয়ামী লীগ সমর্থিত সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রয়েছে। এই সরকারকে জনগণ আবারও কেন নির্বাচিত করবে বলে মনে করছেন?

প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল: দেশের স্বার্থ চিন্তা করলে আওয়ামী লীগকেই জনগণ আবার ভোট দিবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার পথযাত্রায় এক সফল নেতা, সফল মানুষ। সমুদ্র বিজয় থেকে মহাকাশ যাত্রা- কোথায় সাফল্যের পদচিহ্ন নেই?

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, দুস্থ ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, কমিউনিটি ক্লিনিক, নারী শিক্ষার উন্নয়ন- সব ক্ষেত্রেই সরকার সফল ও আন্তরিক। যোগাযোগে অভূতপূর্ব সাফল্য সরকার অর্জন করেছে। পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান। জঙ্গিবাদ, মাদক দমনে সরকারের সাফল্য আগের সব রেকর্ডকে ভঙ্গ করেছে। দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত হয়েছে। অনেক এমপিদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে জবাবদিহিতার প্রশ্নে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।

সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার, তা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। ফলে সকল বিবেচনায় দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/ভোটেরহাওয়া/সাক্ষাৎকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*