মনোনয়ন চেয়ে নতুন আলোচনায় কক্সবাজারে ছাত্রনেতা ইশতিয়াক - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)
জনসংযোগ করছেন ছাত্রনেতা ইশতিয়াক আহমেদ জয়।

মনোনয়ন চেয়ে নতুন আলোচনায় কক্সবাজারে ছাত্রনেতা ইশতিয়াক

প্রকাশিত :১৫.০৯.২০১৮, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো : জেলা পর্যায়ের ছাত্র রাজনীতিতে সারা বাংলাদেশে ইশতিয়াক আহমেদ জয়ের চেয়ে অধিক পরিচিত কেউ আছেন কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা কারণে বারবার আলোচিত সমালোচিত হয়েছেন তিনি দেশব্যাপী।

এই আলোচনা সমালোচনার কারণ বহুমুখী; কখনও সৃষ্টিশীল কর্মকান্ড, কখনও নিজ দলের এমপির সাথে প্রকাশ্য দ্বন্দ, কখনও মানবিক কারণ, আবার বেশ কিছু ক্ষেত্রে তিনি গোয়ার্তমি করেও আলোচিত হয়েছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে এখন আবার তিনি আলোচনায়।

সারা বাংলাদেশে ছাত্রলীগের দায়িত্বে থাকা আর কেউ মনোনয়ন প্রত্যাশী না থাকলেও, তিনি কেনো মনোনয়ন চাচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তর তাঁর কাছ থেকে পাওয়া গেলো না। উলটো তিনিই প্রশ্ন করলেন- “ছাত্রলীগ করলে কি মনোনয়ন চাওয়া যাবে না?”

সাংবিধানিক কোন বাঁধা না থাকলেও ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে লেখা আছে, কোন নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এটি মনে করিয়ে দেওয়ার পর তিনি বললেন- ” ভাই, আমি মনোনয়ন পেলে ছাত্রলীগ থেকে অব্যহতি দিবো।”

এরপর ব্যস্ততার কথা বলে ফোন রেখে দিলেন তিনি। যদিও সামনা সামনি কথা বলার জন্যই তাকে ফোন দেয়া হয়েছিলো, তিনি দেখা করার ব্যাপারটা উপেক্ষা করে ফোনেই আলাপ সারতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু এক মিনিটের বেশি তার সাথে ফোনে কথা বলা সম্ভব হলো না।

এরপর গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে অনেকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নাই। অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় এক রেস্টুরেন্টে তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া গেলো। ব্যস্ততার অজুহাতে তিনি অল্প কিছুক্ষণ কথা বলে উঠে গেলেন। নাকি এড়িয়ে গেলেন?

তবে কি তার বিরুদ্ধে ফোন না ধরার যে অভিযোগ আছে, তা সত্য? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা খুব আক্ষেপের সুরে অভিযোগ করেছেন – “সে প্রয়োজনের সময় ফোন ধরে না। তার এই স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কারণে অনেকেই ক্ষুব্ধ।” জেলা আওয়ামী লীগের এই নেতা ছাড়াও ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীও একই অভিযোগ করেছেন।

এই অভিযোগ তিনি স্বীকার করলেন নাকি অস্বীকার করলেন তা বুঝা গেলো না। তিনি বলেন- “ভাই, আমি ফোন ধরার চেষ্টা করি। অনেক মানুষ ফোন করে। অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে ফোন ধরতে পারিনা যা অনিচ্ছাকৃত।”

ইশতিয়াক আহমেদ জয়ের বিরুদ্ধে এরকম হাজারো অভিযোগ আছে, যার মধ্যে কয়েকটি বেশ গুরুতর। এইসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে কানাঘুষো থাকলেও তাঁর কিছু সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড বারবার সবার নজরে এসেছে।

৭ ই মার্চ উপলক্ষে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রতিযোগিতা সারাদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়, যার মূল উদ্যোগ ছিলো ইশতিয়াকের। এরকম ব্যতিক্রমধর্মী অসংখ্য প্রোগ্রাম সফলভাবে সম্পন্ন করে তিনি তথাকথিত ছাত্রলীগের প্রাচীর ভেঙে আধুনিক এক ধারা তৈরি করেছেন। পরিচ্ছন্ন সমুদ্রের জন্য তার আন্দোলন প্রশংসিত হয়েছে ব্যাপকভাবে। বঙ্গবন্ধু, ছাত্রলীগ ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে তাঁর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র সমালোচকদের প্রশংসার পাশাপাশি অনলাইনে তাকে বেশ জনপ্রিয় করে তুলেছে।

সৃষ্টিশীলতা থেকে বেরিয়ে তার সাহসী রূপও দেখেছে সবাই। ইয়াবা ব্যবসার গডফাদার হিসেবে সাংসদ আবদুর রহমান বদির নাম মিডিয়ায় শুনা যায়। দেশের মানুষ যে বদিকে ভয়ংকর ও ক্ষমতাধর হিসেবে জানে, সেই বদিকে কক্সবাজারে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে ইশতিয়াক আহমেদ জয় সারাদেশে তোলপাড় করে দিয়েছিলেন।

বদি বেশ কয়েকবার আপোষের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শুধু বদি না, ইশতিয়াক আহমেদ জয় জেলা পুলিশ সুপারের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে সারাদেশে আলোচিত হয়েছেন। পুলিশের নিয়োগের দুর্নীতি ফাঁস করে তিনি সারাদেশে প্রশংসিত হয়েছিলেন। তবে এ দুটি ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর মেরুদণ্ড প্রদান করেছে, যার প্রভাব এখনও বিরাজমান।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছাত্রলীগের মনিটরিং সেল সফলভাবে ২১০ দিন এর চেয়ে বেশি দিন পরিচালনা করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুনজরে পড়েছেন। কিন্তু স্থানীয় অনেক নেতার কুনজরে তিনি আছেন। আওয়ামী লীগের কোন নেতার কথা শুনেন না- যা রাজনীতির চেইন ব্রেক করছে এমন অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

অবশ্য তিনি বললেন উলটো কথা-আমি কারও কথা শুনি না, এই অভিযোগ মিথ্যা। আমি সবার কথা শুনি। কিন্তু আমি করি শেখ হাসিনার রাজনীতি, নেত্রী ব্যতীত আমার কোন আদর্শিক নেতা নাই,তাই অনেকেই ক্ষুব্ধ।”

উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের কথা না শুনে কাজ করার অভিযোগে তিনি বলেন-“এতো নেতা এতো অনুরোধ করে, কাকে রেখে কাকে নেতা বানাবো? এক উপজেলায় তো ২০ জনকে প্রেসিডেন্ট করা যাবে না।”

ছাত্রনেতা হয়েও কেনো অস্ত্রের লাইসেন্স নিলেন তিনি, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন-“পৃথিবী সুন্দর, বেঁচে থাকতে ভাল লাগে। বাঁচার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা কি অপরাধ?”

ইশতিয়াক মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় ছাত্রলীগ থেকে ব্যাপক শো ডাউন চলছে পুরো এলাকা জুড়ে। সেই তুলনায় বর্তমান এমপির মাঠের পারফরমেন্স ভালো না হওয়ায়, ইশতিয়াকের সম্ভাবনা প্রবল মনে করা হচ্ছে। উন্নয়নের গল্প শিরোনামে আওয়ামীলীগের উন্নয়ন জনগণের কাছে ব্যতিক্রমী ভাবে উপস্থাপন করায়, প্রশংসা পাচ্ছে জাতীয় নেতাদের কাছ থেকে।

তবে বর্তমান এমপির লোকজন অভিযোগ করছে-” ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে ইশতিয়াক।”

জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে গেলে ইশতিয়াক কিছুটা দমে যাবে, এরকম আশা করে স্থানীয় এমপি সেন্ট্রাল ছাত্রলীগে ব্যাপক তদবির চালাচ্ছেন। কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা এতো কম বয়সে এমপি ইলেকশন করতে চাওয়াকে বেয়াদবী বলছেন। আর এর ভেতর দিয়েই ইশতিয়াক জন্ম দিচ্ছে একটার পর একটা ঘটনা, কখনও তা পজেটিভ, কখনও তা নেগেটিভ। পজেটিভ নাকি নেগেটিভ কোন পাল্লা ভারী হচ্ছে, তা সময়ই বলে দিবে।

তবে কক্সবাজারের রাজনীতিতে খুব অল্প সময়ে ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে “পজেটিভ-নেগেটিভ ইশতিয়াক”। সাফল্য ও ব্যর্থতার হিসেব করে বলতেই হয় -“অপ্রতিরোধ্য ইশতিয়াক, পজেটিভ নেগেটিভ ইশতিয়াক”।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/রাজনীতি/ভোটেরহাওয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*