হুমকিতে কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য: ইউএনডিপি

সারাবেলা রিপোর্ট : রোহিঙ্গা বসতি স্থাপনে কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। ১৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার ইউএনডিপির প্রকাশিত ‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে পরিবেশগত প্রভাব’বিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়স্থল তৈরি, রান্নার কাঠ সংগ্রহ এবং অন্যান্য সুবিধা দিতে গিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে চার হাজার তিনশ একর পাহাড় ও বন কেটে ফেলা হয়েছে। এতে পরিবেশগত দিক দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যে ক্ষতি হচ্ছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কক্সবাজারে আগে থেকে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা, স্থানীয় অধিবাসী এবং গত বছরের আগস্ট থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মিলে এখন সেখানে ১৫ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বসবাস। এতে এই এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর দারুণ নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে। যার অনেকটাই এখনো আমরা উদ্ঘাটন করতে পারেনি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ইউএনডিপি ও ইউএন ওম্যান যৌথভাবে এই জরিপ পরিচালনা করেছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘সরকার মূলত মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু ১১ লাখ রোহিঙ্গা সেখানে আশ্রয় নেওয়ায় এখন সেখানকার পাহাড়ি জমি নষ্ট হচ্ছে।’

‘গাছ কেটে ফেলার কারণে পাহাড় ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে, অল্প জায়গায় অধিক মানুষ থাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অগ্নি নিরাপত্তার অভাব দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গারা যেসব এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে,সেখানকার স্থানীয়রাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

পরিবেশগত ক্ষতি রোধ করতে এই এলাকায় বনজ ও ফলজ গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। সেই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সচিব আব্দুল্লাহ আল মহসীন চৌধুরী, প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ শফিউল আলম চৌধুরী, ইউএনডিপি কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জী, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মহসীন প্রমুখ।

সূত্র: বাসস

অাজসারাবেলা/সংবাদ/রই/জাতীয়