মান্দা’র মানুষ আমাকে ভালবাসে: সুলতান মাহমুদ রায়হান

নওঁগা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. সুলতান মাহমুদ রায়হান।
  • আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মো. সুলতান মাহমুদ রায়হান নতুন মুখ হলেও জনপ্রিয়তা আর বিশ্বস্ততায় জনগনের আস্থাভাজন। নওঁগা-৪ মান্দা আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। আছে সততা, মেধা ও কর্মস্পৃহা। সঙ্গে যোগ হয়েছে তারুণ্য। যুক্ত সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এই তরুন মুখোমুখি হয়েছিলেন আজ সারাবেলা’র। স্থানীয় রাজনীতি, আগামী নির্বাচন, প্রচার প্রচারণা আর রাজনৈতিক স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন রবিউল ইসলাম রবি ও সিদ্দিক আশিকের সঙ্গে।

নওঁগার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর বাজারে জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে একটা ভাষ্কর্য নির্মিত হতে যাচ্ছিল। যার অনেকটাই পাকিস্তানি ভার্ষ্কযের আদলে। বিষয়টি প্রথম আমার চোখে পড়ে। আমি প্রতিবাদ করি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গণমাধ্যমও এগিয়ে আসে। এ ঘটনায় আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মোড় ঘুড়ে যায়। মান্দা এলাকার মানুষ একজন প্রতিবাদী যুবক হিসাবে আমাকে জনপ্রতিনিধির আসনে দেখতে চায়। অনেকদিন থেকেই জনগনের জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন একজন প্রতিবাদী তরুন মো. সুলতান মাহমুদ রায়হান । তবে তার রাজনীতির পথচলা শুরু হয়েছিল আরও আগেই।

নওগাঁ জেলার মান্দা থানায় কুশুম্বা ইউনিয়নের চকশ্যামরা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে মো. আকবর আলী মন্ডল এবং নার্গিস বেগমের পরিবারে জন্মগ্রহন করেন মো. সুলতান মাহমুদ রায়হান। বাবা মায়ের অনুপ্রেরণাতেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন রায়হান। ২০১৪ সালে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এমবিএ সম্পন্ন করেন।

মাধ্যমিকের গন্ডি পেড়িয়েই ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পরেন এই তরুন। ২০০৭-২০০৮ সালে অগণতান্ত্রিক সরকার বিরোধী নানা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় ছিলেন রায়হান। সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক জরিপ, গবেষণা এবং তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের কাজ এবং সজীব ওয়াজেদ জয়’র বিভিন্ন সেমিনারে সাংগঠনিক ভাবে দায়িত্বও পালন করেন।

নওঁগা-৪ আসনটির বিভিন্ন এলাকার ঘরে ঘরে, চা’য়ের দোকানে, স্কুল-কলেজে সর্বত্রই সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন রায়হান। কখনও গল্প করে, কখনও লিফলেট বিলিয়ে আবার কখনও বা প্রজেক্টরের মাধ্যমে রায়হান তুলে ধরছেন সরকারের নানামুখী উন্নয়ন চিত্র।

আগামী নির্বাচনে আরও অনেকেই প্রার্থী রয়েছেন। তবে রায়হানের প্রতি এলাকার মানুষদের বাড়তি আগ্রহ ও আন্তরিকতা দুটোই প্রবল লক্ষ্য কারা গেছে।

মান্দার মানুষ কেন আপনাকে নির্বাচিত করবে এমন প্রশ্নের জবাবে রায়হান বলেন, এলাকার মানুষ আমাকে ভালবাসে দুটো কারণে। প্রথমত, আমি তাদের সুখ দুঃখে সব সময় পাশে থাকার চেষ্টা করি। বিপদ-আপদে আমাকে সহজেই পাশে পান তারা। দ্বিতীয়ত, আমি সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সাথে কাজ করছি দীর্ঘ দিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় এই সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ও প্রত্যয় তার সঙ্গে আমরা সুচিন্তার কর্মীরাও যুক্ত রয়েছি। স্বাভাবিকভাবে প্রযুক্তি নির্ভর আগামীর বাংলাদেশের প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে।

নির্বাচিত হলে তরুন হিসেবে কোন জায়গাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন, এ প্রশ্নের জবাবে রায়হান বলেন, নওঁগার মান্দা এলাকাটি এখনও অবহেলিত, তরুনদের অনেকই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কেউ কেউ বিপদগামী মাদকাসক্ত। উন্নয়ন ও গঠনমূলক কাজের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই। যদি সুযোগ পাই এই তরুন সমাজকে অবহেলার চাদর থেকে বের করে দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যাতে দেশের উন্নয়নে তারাও অবদান রাখতে পারে।

কৃষিপণ্যে এই এলাকার একটা বিশাল সুযোগ রয়েছে সম্ভাবনা রয়েছে। সুযোগ রয়েছে ব্যবসা বাণিজ্যসহ সাংস্কৃতিক বিকাশ সাধনের। আমি চেষ্টা করবো একটি আদর্শ ও প্রগতিশীল তারুন্য নির্ভর আসন হিসেবে নওঁগা-৪ আসনটিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীতে উপহার দিতে।

রাজনৈতিক লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে, মো. সুলতান মাহমুদ রায়হান বলেন, বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস রেখে বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত স্বপ্ন সোনার বাংলা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও দিক নির্দেশনায় এলাকার মানুষের জীবন মানের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/সাক্ষাৎকার/ভোটের/হাওয়া