মানুষ যদি নিজের ভাল বোঝে, তবে অবশ্যই শেখ হাসিনাকেই ভোট দিতে হবে : ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী

একজন ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী, তিনি যতটা না চিকিত্সক, তারচেয়ে বেশি রাজনীতিবিদ। বাবা-মা উভয়েই রাজনীতি করেছেন বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে থেকে, নিজেও পেয়েছেন স্নেহ-ভালবাসা। আওয়ামী লীগের রাজনীতিই তার ব্রত। আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
আজ সারাবেলা’র সঙ্গে সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন তার রাজনৈতিক জীবন, চুয়াডাঙ্গার মানুষ, এলাকার মানুষের উন্নয়ন, আর আসন্ন নির্বাচনের কথা।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন জববার হোসেনসিদ্দিক আশিক

আজ সারাবেলা: আপনি একজন চিকিত্সক। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত হলেন?

ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী: পাকিস্থান আমলে আমার বাবা মুরাদ হোসেন বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করতেন। বাবা চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন, মা ছিলেন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। আমার চাচা ডা. আশাবুল হক হেবা ও বাবা কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর সাথে পড়াশুনা করতেন। বাড়িতে বঙ্গবন্ধু ও তত্কালীন রাজনীতি নিয়ে প্রায় সময়ই আলোচনা হতো, খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। রাজনীতির আগ্রহ মূলত তখন থেকেই তৈরি হয়। ’৬৬ তে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন ছাত্রলীগের প্রাথমিক সদস্য ছিলাম। ’৬৯ এ মেট্রিক পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে স্ট্যান্ড করি। কলেজে ভর্তি হয়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। পরবর্তীতে আমি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছি। চুয়াডাঙ্গা বিএমএ’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

আজসারাবেলা: আপনার বাবা বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছেন। আপনিও স্বাধীনতার আগে ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। সেই সময় বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রত্যক্ষ কোনো স্মৃতি…

ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী: ’৭০ এর নির্বাচনের আগমুহূর্তে। বঙ্গবন্ধু ঝিনাইদাহে নির্বাচনী সভা শেষ করে সভা করার জন্য চুয়াডাঙ্গা এসেছিলেন। বাবা আমাকে সহ বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। বাবাকে নাম ধরে ডাকতেন বঙ্গবন্ধু। সেখানে বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেয় বাবা। পরদিন সভা শুরু হবার আগে বঙ্গবন্ধু আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন। লেখাপড়ায় যেহেতু ভাল ছিলাম তাই আমাকে ভালভাবে পড়াশুনা করে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে বলেছিলেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অনেক ভোটে জয়লাভ করেছিল। তারপর নানা তালবাহানা। আন্দোলন সংগ্রাম। মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার গঠনের সময় সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম। তারপর মুক্তিযুদ্ধ করলাম। দেশ স্বাধীন হলো।

আজ সারাবেলা: চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আপনিও একজন। নিজে আপনি কতটা যোগ্য প্রার্থী এবং জনগণ কেন আপনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে বলে মনে করছেন?

ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী: জনগণ চায় স, শিক্ষিত এবং যোগ্য একজন জনপ্রতিনিধি। যেন এলাকার এবং মানুষের উন্নয়ন হয়। নিজের সম্পর্কে যতটা আমি না বলবো, তার চেয়ে এলাকার মানুষই আমার কথা বেশি বলবে এমনটাই আমার বিশ্বাস। মানুষের আস্থা একদিনে অর্জন করা যায় না। আমি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সেই জায়গাটিতে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সততা মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ বলে মনে করি। আর আমি বরাবরই আমার চিন্তা ও কর্মে সৎ থেকেছি।
আমি একজন চিকিত্সক, পেশাজীবী মানুষ। কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়েছে কিন্তু কখনোই এলাকার মানুষকে ছেড়ে যাইনি। তাদের সঙ্গে ছিলাম, এখনও আছি। ভবিষ্যতেও সুখ-দুঃখে পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ্।
এলাকার গরিব-দুঃখীদের যতটা পারি সহায়তা করি। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে নিয়মিত চিকিত্সা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কখনও আমার সামর্থের মধ্যে না থাকলে বন্ধুদের সহযোগিতা নিই। কারো চাকরি দরকার হলে বন্ধুদের সহযোগিতা নিয়েছি তার কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে।
আমার এলাকার মানুষের বক্তব্য— “আপনি নমিনেশন নিয়ে আসেন জনগণ আপনাকে নির্বাচিত করবে।”

আজ সারাবেলা: নিজ এলাকার সমস্যা কতটা চিহ্নিত করতে পেরেছেন এবং সমাধানের জন্য পরিকল্পনা কী?

ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী: সীমান্ত এলাকা হওয়ায় মাদক এখন ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। এই মাদক তরুণ সমাজকে শেষ করে দিচ্ছে। সন্ত্রাস ও অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। নিরাপত্তা নষ্ট হচ্ছে। আমি সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। মাদক নির্মূল হলেই সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে। ফিরে আসবে শিক্ষার পরিবেশ, নারীর নিরাপত্তা, মানুষের মধ্যে স্বস্তি।
সারাদেশে ব্যাপক উন্নতি হলেও এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থার তেমন উন্নয়ন হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে এই এলাকায়। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করা। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখন সময়ের দাবি। কৃষি প্রধান এলাকা হলেও কৃষিতে পিছিয়ে আছি আমরা। কৃষিখাতে উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পরা হাতে নিয়েছি। বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যেই দক্ষ জনবল সৃষ্টির লক্ষ্যে কিছু টেনিং ইন্সটিটিউট গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। কিছু শিল্পকারখানা হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবেই, সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়নও নিশ্চিত হবে। সরকার ঠিকই বরাদ্দ দিচ্ছে, কিন্তু তা সাধারণের দরজা পর্যন্ত পৌঁছায় না। সুযোগ পেলে আমি মানুষের সেবা ও অধিকারকে নিশ্চিত করতে চাই।

আজ সারাবেলা: আওয়ামী লীগ সমর্থিত সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রয়েছে। এই সরকারকে জনগণ আবারও কেন নির্বাচিত করবে বলে মনে করছেন?

mahbub pic
চুড়াডাঙ্গা ১ আসনে জনসংযোগ করছেন ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী

ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী: উন্নয়নের যে মহাসড়কে দেশ চলমান, তা যদি থামিয়ে দিতে হয় তবেই আওয়ামী লীগ ভিন্ন লোকে অন্য চিন্তা করবে। কিন্তু এমন কোনো মানুষ নেই যে নিজের স্বার্থ না বোঝে। সেদিক থেকে চিন্তা করলেও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে। কেননা এই সরকারের উন্নয়নে প্রতিটি মানুষ লাভবান। মানুষ যদি নিজের ভাল বোঝে, তবে অবশ্যই শেখ হাসিনাকেই ভোট দিতে হবে।

যোগাযোগে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে সরকার। পদ্মাসেতু এখন সময়ের ব্যাপার। জঙ্গিবাদ দমন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার— সব ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সফল। স্বল্প উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশে পা রেখেছে বাংলাদেশ। দ্রুত উন্নতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত। এই যে ব্যাপক উন্নয়ন তা সম্ভবপর হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে। ফলে নিজেদের ভাল চিন্তা করলে জনগণ অবশ্যই আওয়ামী লীগকেই ভোট দিবে।

আজ সারাবেলা: অনেক চিকিত্সক আগেও সাংসদ হয়েছেন, এখনও আছেন। দেখা যায় সাংসদ হবার পর পেশাগত জায়গাটি থেকে তারা সরে আসে। আপনি যদি সাংসদ নির্বাচিত হন, আপনার ক্ষেত্রে কী ঘটবে?

ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী: সংসদ সদস্য হলে-যে রোগি দেখা যাবে না, অপারেশন করা যাবে না, মানুষকে সেবা দেওয়া যাবে না— তা নয়। যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। যদি জনগণ আমাকে নির্বাচিত করে তাহলে অবশ্যই দেশ ও জনগণের সেবা করবো। পাশাপাশি সাধারণ রোগি দেখা এবং চিকিত্সক হিসেবে আমার কাজও চালিয়ে যাব। দুটোই তো সেবা। বঙ্গবন্ধুর যে সোনার বাংলার স্বপ্ন ছিল আমরা সবাই মিলে কাজ করলে শীঘ্রই তা পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ্।

 

আজ সারাবেলা/সংবাদ/সিআ/ভোটের-হাওয়া