মাশরাফি কি পারবেন আনিসুল হক হতে!

  • আমানুল্লাহ নোমান
    মাশরাফিকে নিয়ে সর্বত্রই গুঞ্জন চলছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে নানা কথা। বেশ কয়েকদিন আগেও দল মত নির্বিশেষে সবাই মাশরাফির ফ্যান ছিল। কিন্তু আজ তার উল্টো অবস্থা।

বাইশ গজের মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বাইশ প্যাচের চেয়েও অনেক গুণ প্যাচানো। এ পথে আসলেই শুভাকাঙ্ক্ষী, ভক্ত অনুরাগী অনেক কমে যায়।

বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক প্রবন। চায়ের দোকান থেকে পার্লামেন্ট সর্বত্রই চলে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমালোচনা। এই আলোচনা সমালোচনা সব কিছুকে উপেক্ষা করে একজন রাজনীতিবিদের রাজনীতি করতে হয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পদ্ধতি অধিকাংশ জনগণই অপছন্দ করে। মূল কারণ হচ্ছে রাজনীতিকে এক শ্রেণীর লোক পেশায় পরিণত করেছে। দলের নাম ভেঙে কিছু লোক আয় রোজগারে ব্যস্ত। হাই কমান্ডও এ বিষয়ে নীরব। দল গঠন করে রাখতে ও কর্মীদের পরিচালনা করতে অনেকটাই ছাড় দিয়ে থাকেন। এমনটা হওয়ার পেছনে ভালোদের নীরবতা অন্যতম একটি কারণ। সুস্থ চিন্তার মানুষেরা রাজনীতিতে আসতে চান না। কোন ধরনের ঝুট-ঝামেলায় নিজেকে জড়াতে চান না। যার ফলে সর্বত্রই খারাপরা আমাদের মাথার উপরে চেপে বসে আছে।

এমন ধরনের হাজারো সমস্যার ভীরে মাঝে মাঝে কিছু লোক রাজনীতির আকাশে আলোর ইশারা দিয়ে থাকেন। তার ভেতরে ঢাকার মেয়র আনিসুল হক অন্যতম। তিনি ঢাকার উন্নয়নে অন্যতম নজির স্থাপন করেছেন। দল-মতের ঊর্ধ্বে সবার মনে স্থান করে নিয়েছেন।কিন্তু বিধাতার অমোঘ নিয়মে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

এখন কথা হচ্ছে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে। তিনি কি পারবেন রাজনীতির আকাশে আনিসুল হকের মতো নতুন কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে? রাজনীতির ময়দানে এখন খুব ভালো সময় যাচ্ছে না। বিগত বছরগুলোতে শুধু উত্তাপ ছড়িয়েছে সেই সাথে ছরিয়েছে ঘৃণা। পক্ষ-বিপক্ষের একে অপরের ছায়াও মাড়াতে নারাজ। পুরো রাজনীতি জুড়ে এমন অস্থিরতায় বিরাজমান। ঠিক এমন সময় মাশরাফির মতো ভালো মানুষদের রাজনীতিতে যোগদান করা একটি ইতিবাচক দিক। সব দলে এমন ভালো মানুষগুলো সরব হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন আসবে।

আশা করি, মাশরাফি রাজনীতির গুণগত মান পরিবর্তনে আন্তরিক ভাবে কাজ করবেন।

পাকিস্তানের ইমরান খান যদি সেদেশের প্রেসিডেন্ট হতে পারেন, তাহলে মাশরাফিরা কেন পারবেন না। পারিবারিক প্রথা ভেঙে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ম্যাশরাই় আনতে পারবেন আমূল পরিবর্তন। তাই ম্যাশের কাজের পরিধি অনেক।

ক্রিকেট দুনিয়ায় মাশরাফি যখন উত্তাপ ছরানো শুরু করে তখন অনেক মা-বাবাই তার সন্তানের নাম রেখেছেন মাশরাফি না হয় মর্তুজা। বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক নেতার নামের সাথে মিল রেখে নাম রাখার প্রথা খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু মাশরাফির বেলায় এমনটা ঘটেছে। এর কারণ একটাই মানুষ তাকে মন থেকে গ্রহণ করেছে।

খেলার মাধ্যমে তিনি যেমন খুব তাড়াতাড়ি সবার হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করতে পেরেছেন রাজনীতির মাঠে বিষয়টি অত সহজ নয়। এজন্য মাশরাফিকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে।

বাংলাদেশের স্বচ্ছ রাজনীতির ইতিহাস প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। যদি এমনটা করেন তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাশরাফি হয়ে উঠবেন আরেকজন আনিসুল হক।

আজসারাবেলা/কলাম/রই/