যে জীবন আমরা যাপন করছি তার বয়ানই মূলত আমি লিখেছি: ইফতেখায়রুল ইসলাম

  • বই মেলার মাঠে নতুন এসেই ছক্কা পিটিয়েছেন তিনি। বই প্রকাশের মাত্র ক’দিনের মধ্যেই ২য় মুদ্রনও হাজির। পেশায় পুলিশ কর্মকর্তা হলেও সুদর্শন এই লেখক এখন অনেকেরই প্রিয় পাঠ্য। আগ্রহী পাঠকরা ইফতেখায়রুলকে জানবেন এই সাক্ষাৎকারে আরও বিস্তারিতভাবে…

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জব্বার হোসেন

আজ সারাবেলা: লেখক হয়ে ওঠার গল্পটা কেমন?

ইফতেখায়রুল ইসলাম: লেখালেখির অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই ছিল। বিতার্কিক ছিলাম। সেখানে স্ক্রিপ্টের একটা বিষয় ছিল। সামাজিক অসঙ্গতি অনেকসময়ই আমাকে পীড়া দিত। সেসব বিষয় নিয়ে লিখবার চেষ্টা করেছি। কখনও দৈনিক পত্রিকায়, কখনও অনলাইনে। এসব লেখা অনেকেরই নজর কেড়েছে। বই আকারে প্রকাশ করতে চেয়েছে কেউ কেউ। শব্দ শৈলী প্রকাশক ইফতেখার আমিনের অনুরোধটাই শেষ পর্যন্ত টিকলো। পুলিশে চাকরি করবার কারণে বইয়ের জন্য একেবারে নতুন করে লেখা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন সময় প্রকাশিত কলামগুলো পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন করে বই আকারে প্রকাশ করেছি। ‘যাপিত জীবনের কড়চা’ আসলে চারপাশের ঘটনাবলি।

দেখা যায়, একজন সল্প শিক্ষিত মেয়ে কোন একটা প্রয়োজনে এসেছে অথচ তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আবার অনেক শিক্ষিত একজন মানুষ কিন্তু তার আচরণ ভীষণ হতাশ হবার মত। যে জীবন আমরা যাপন করছি তার বয়ানই মূলত আমি লিখেছি।

আজ সারাবেলা: পুলিশের কাছে মানুষ অনেক প্রয়োজনে যায়। অনেকের জীবন, অনেক জীবনের গল্প জানবার সুযোগ এখানে রয়েছে। আপনি চাইলে একটা উপন্যাস লিখতে পারতেন। উপন্যাস লিখলেন না কেন?

ইফতেখায়রুল ইসলাম: ‘যাপিত জীবনের কড়চা’ হয়ত বই মেলায় প্রকাশিত প্রথম বই। তবে লেখক হিসেবে আমার প্রথম প্রয়াশ হবে মা’কে নিয়ে একটি উপন্যাস লেখা। তার কাঠামোও তৈরি হয়ে আছে। অনেকটা কাজও করেছি তবে সময়ের কারণে আর বসা হয়ে ওঠেনি।

আজ সারাবেলা: প্রথম বই নিয়ে অনেক রকম বলা হয়ে থাকে। সন্তানের মত, প্রথম প্রেমের মত। প্রথম বই, আপনার অনুভুতি কি?

ইফতেখায়রুল ইসলাম: অনুভুতি আসলে অনুভবের, হয়তো বলে বোঝানো যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ থেকে কৃষ্ণ নামে একজন শুধু আমার বইটি কিনতে বাংলাদেশে এসেছেন। আমি আবৃত্তিও করি। তিনি নিয়মিত ফেসবুকে আমার প্রোফাইল ফলো করতেন। সেখান থেকে আমাকে চেনেন। শুধু তাই নয়, ঠিকানা খুঁেজ বের করে আমার অটোগ্রাফ নিয়েছেন। গতকাল কয়জন তরুণ বইটির প্রচ্ছদ দিয়ে টি-শার্ট বানিয়েছেন। আমার শিক্ষকরাও খুব এপ্রিসিয়েট করেছেন। এমন অনেক উৎসাহ ও আনন্দের ঘটনা রয়েছে বইকে ঘিরে।

আজ সারাবেলা: জনপ্রিয় লেখক ধীরেন্দ্র নাথ, আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন, আবু ইসহাক পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। বর্তমান পুলিশের সিনিয়ার কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, মোশতাক আহমেদ, রহমান শেলি লেখালেখি করছেন। মোশতাক আহমেদ বাংলা একাডেমী পুরস্কারও পেয়েছেন তারা কি কোন ভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন আপনাকে?

ইফতেখায়রুল ইসলাম: সিনিয়রদের লেখা অনেকটা অনুপ্রাণিত করেছেতো বটেই। তবে আমার মত একজন নতুন লেখকের লেখা যারা বিভিন্ন সময় পড়েন, উৎসাহ দেন তারাই আমার বড় অনুপ্রেরণা।

আজ সারাবেলা: আপনি আবৃত্তি করেন, উপস্থাপনা করেন, আবার ‘মজার স্কুল’-এর সঙ্গেও যুক্ত। এতকিছু একসঙ্গে সমন্বয় করেন কিভাবে?

ইফতেখায়রুল ইসলাম: কাজের আনন্দ আমার কাছে সব থেকে বড়। প্রতিটি কাজ আনন্দ নিয়ে করতে চাই। মজার স্কুলের একটা ঝামেলা হয়েছিল তার সমাধান দিতে গিয়ে তাদের একজন হয়ে যাই। আবৃত্তি, উপস্থাপনা আমার ভাল লাগা। এক সময় টেলিভিশনে কাজ করেছি এখন সময়ের কারনে হয় না। ডিপার্টমেন্টের অনুষ্ঠানগুলো করার চেষ্টা করি। অফিস থেকে বাড়ি ফিরি রাত ১২ টার পর। যখন খুব আবৃত্তি করতে ইচ্ছা করে তখন বৃহস্পতিবার বেছে নিই। রেকডিং করে হয়তো রাত তিনটার দিকে ফিরি। দু-তিন মাস পর পর এমন হয়। শুক্রবার দিনটা কখনও কখনও একটু শিথিল থাকে। সিনিয়ররাও রাগ করেন না।

আজ সারাবেলা: নতুন পরিকল্পনা আর ব্যক্তিগত জীবন-আপনার দু’টোর প্রতিই পাঠকের আগ্রহ প্রবল…

ইফতেখায়রুল ইসলাম: মা’কে নিয়ে একটি উপন্যাস লিখব। তবে কাল হঠাৎ করে আমার ভাইয়ের ছেলে আমাকে বলল, ইফতি বাবা তুমি একটা ভূতের বই লিখ। তখনই বাচ্চাদের জন্য একটা বইয়ের কথা মাথায় আসল। একটা ভাল ভূতের গল্প।

আর ব্যক্তিগত জীবন, লেখকের লেখাইতো তার ব্যক্তিগত জীবন।

আজসারাবেলা/সাক্ষাৎকার/রই/বইমেলা/শিল্প-সাহিত্য