ভালবাসার দিনে প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে দেশপ্রেম ও বঙ্গবন্ধুর গল্প

রবিউল ইসলাম রবি : ‘আজ সারাবেলা’ ও ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ এর উদ্দ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ শীর্ষক বছরব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রচারাভিযানের এবারের কার্যক্রম ছিল রাজধানী মিরপুরের প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়টির প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

শুরুতেই ‘আজ সারাবেলা’ সম্পাদক জববার হোসেন এ কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বলেন, মূলত দেশ সম্পর্কে, নিজের শেকড় সম্পর্কে, নিজের পরিচয় সম্পর্কে জানানোর জন্যই এ কার্যক্রমের আয়োজন। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে ভালভাবে জানলে সে কখনওই ভুল পথে যাবে না, বিভ্রান্ত হবে না।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বক্তব্য রাখেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর কানতারা খান। তিনি বলেন, আজ ভালবাসা দিবস। মানুষ সবচেয়ে বেশি ভালবাসে নিজেকে। আর নিজেকে ভালবাসতে হলে জানতে হবে- আমার পরিচয় কি? কিভাবে পেলাম আমার পরিচয়? নিজের সীমান, অস্তিত্ব, শিকড় সম্পর্কে জানতে পারলেই ভালবাসতে পারবো নিজেকে। নিজের দেশকে। তাই আমরা নিজেদেরকে জানতে, নিজের দেশকে জানাতে তোমাদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর গল্প, মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে ‘আজ সারাবেলা’ ও ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে জানলেই বাংলাদেশকে জানতে পাবরো, ভালবাসতে পারবো।

তিনি বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুর কোন ছবি নেই কেন? আসলে ভাষার জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯৪৮ সালে। পশ্চিম পাকিস্থান থেকে যখন বলা হয়েছিল ‘উর্দু এন্ড উর্দু শ্যাল বি দ্যা স্টেট লেঙ্গুয়েজ অব পাকিস্থান’। তখন প্রথম প্রতিবাদ করেই বঙ্গবন্ধু প্রথমবার হয়েছিলেন তিনি। এর পর আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারন করে। ৫২’র ২১শে ফেব্রুয়ারির আগে তাকে আবারও আটক করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় প্রায় ১৪ বছর জেলে ছিলেন। শুধুমাত্র দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আন্দোলন, প্রতিবাদ করায়।

৭০ এর নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে জয়লাভের পর ক্ষমতা হস্তান্তর না করে উল্টো নানা বাহানা করে ১৯৭১এর ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালির উপর হত্যাযজ্ঞ চালায় পশ্চিম পাকিস্থান। সে সময় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৫ শে মার্চ রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে বঙ্গবন্ধুর রেকর্ড করা স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ ও ২৭ মার্চ দিনভর প্রচার করা হয়। মূলত ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকেই বাঙালিদের যুদ্ধের প্রস্ততি শুরু হয়ে যায়।

২৬ শে’র সকালে পৃথিবীর প্রায় ৮ থেতে ৯টা দেশের জাতীয় দৈনিকে শিরোনাম হয়েছিল ‘মুজিব ডিক্লিয়ারস ইন্ডিপেন্ডেনসি’।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে পরে বিভিন্ন সময়ে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করেছিল মোট এগারো জন এদের মধ্যে জিয়াউর রহমানও একজন। বিভ্রান্ত্রী ছড়াবার কিছু নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশে তোমারা সবকিছুই পাচ্ছো ইন্টারনেটে। এখনই ইউটিউব, গুগলে ঢুকলে তোমরা জানতে পারবে মুক্তিযুদ্ধের নানা ইতিহাস।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি, এবিএম মাজাহারুল আনাম। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ যে মানুষটির কারণে সম্ভব হয়েছিল তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির অধিকার আদায়ে যিনি ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিত প্রাণ। কিছুতেই আপোষ করেননি তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নানা আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। শুধু চেয়েছিলেন পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তিপাক এই ভূখণ্ড। তাইতো সকল আন্দোলন সংগ্রামে জয়ী হয়ে লাল সবুজের পতাকা এনে দিয়েছেন, দিয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, অনেক ত্যাগ, রক্ত, জীবন, মা-বোনদেন সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই দেশের জন্ম। প্রাণ দিয়েছেন ৩০ লাখ শহীদ, সম্ভ্রম হারিয়েছেন ২ লাখ মা-বোন। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে মনে ধারণ করতে হবে। আর এই চেতনা ধারণ করলেই দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।

বাঙালি জাতির গৌবর ঐতিহ্য হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। তাই তরুণ প্রজন্মকে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। সঠিক ইতিহাস জানলেই দেশের প্রতি ভালবাসা আরও বেগবান হবে।

এই কার্যক্রমের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রাইম ইউনিভার্সিটির রেজিষ্টার (অব:) ক্যাপ্টেন এম এ জব্বার, বিএন। তিনি বলেন, বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জন মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি, পেয়েছি স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বলেই আজ আমরা স্বাধীন দেশে বাস করছি, শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারছি, তোমরা স্বাধীন দেশে লেখাপড়া করতে পারছো। বঙ্গবন্ধু ছিলেন শোষিতদের নেতা। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর জাতিসংঘে এক ভাষনে তিনি বলেছিলেন, সারাবিশ্ব দুইভাগে বিভক্ত। একদল শোষক অন্যটি শোষিত- আমি শোষিতদের পক্ষে।

এছারাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রাইম ইউনিভার্সিটির কোষাধক্ষ অধ্যাপক আরশাদ আলী।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জববার হোসেন।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/জাতীয়/মুক্তিযুদ্ধ