চিকিৎসক-রোগী সুসম্পর্ক: চিকিৎসা শিক্ষার ভূমিকা

ডা. অভিজিৎ চৌধুরী

আজকের বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিনই আমরা বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় চিকিৎসকের অবহেলার খবর পাই। চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর নাগরিকদের আস্থাহীনতা প্রকাশ্য। কিন্তু কেন, কোথায় ঘাটতি এবং কিভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তার কারণ অনুসন্ধানের প্রয়াস খুব একটা দেখা যায় না। ক্ষেত্রবিশেষে চিকিৎসার ভুল ব্যাখ্যা এবং অতিরঞ্জিত খবর ডাক্তার ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেয়।

চিকিৎসকেরা চিকিৎসা অবকাঠামোর অপ্রতুলতা এবং রোগী ও তাঁর স্বজনের ধৈর্যহীনতার কথা তুলে ধরেন। আর রোগীদের অভিযোগ চিকিৎসকের ব্যবহার, চিকিৎসায় দেয়া অপর্যাপ্ত সময় ও চিকিৎসা পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে তুলে না ধরা নিয়ে। এই চাহিদা ও প্রাপ্তির অসামঞ্জস্যতার ঘাটতি কেন হচ্ছে তা একজন তরুণ চিকিৎসক ও শিক্ষকের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরবো এই লেখায়।

বাংলাদেশের চিকিৎসাশিক্ষা এখনো চলছে ষাট-সত্তরের দশকের পাকিস্তান আমলের নীতিমালা অনুযায়ী, যা তৈরী করা হয়েছিলো ব্রিটিশ চিকিৎসাশিক্ষা পরিকল্পনা অনুসরণ করে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই পর্যায়েই বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা মুখস্থবিদ্যা নির্ভর। মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় মুখস্থবিদ্যার প্রয়োগের দক্ষতার ভিত্তিতে ছাত্র-ছাত্রী নির্বাচন করা হয়। এই ভর্তি প্রক্রিয়া আবার প্রচন্ডভাবে প্রভাবিত হয় এসএসসি ও এইচএসসিতে প্রাপ্ত নম্বর/জিপিএ দিয়ে।

বলা বাহুল্য, এসএসসি ও এইচএসসি দুই পর্যায়ের পড়াশুনাই মুখস্থবিদ্যা নির্ভর। বাংলাদেশে যেসব ছাত্রছাত্রী মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তি হয় তাদের কোন অ্যাপটিটিউড (Aptitude), সাইকোলজিক্যাল (মনস্তাত্ত্বিক) বা এনালাইটিক্যাল (সমস্যা সমাধান-সৃজনশীলতা) পরীক্ষা হয় না। অস্ট্রেলিয়ার মত দেশগুলোতে অ্যাপটিটিউড টেস্টের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী মেডিকেলে ভর্তি করানো হয়। এই টেস্টের কোন সিলেবাস নেই, আগে থেকে কোন পড়াশুনা করা লাগে না এবং যেকোন বয়সের যেকোন নাগরিক এই পরীক্ষা দিতে পারেন।

এই পরীক্ষায় যাচাই করা হয় একজন ব্যক্তির চিকিৎসক হতে যেসব মানসিক গুনাবলী ও দক্ষতা থাকা উচিত তা আছে কিনা। এই পরীক্ষা দিতে বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রী হতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। ব্যবসা বা মানবিক বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান শিক্ষার কোর্সগুলো করেই এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। আমার কয়েকজন ছাত্রছাত্রী আছেন যাদের কেই আইনজীবী, কেউ ব্যবসায়ী বা প্রকৌশলী। এঁরা সবাই বিভিন্ন পেশাজীবী হওয়া সত্তেও চিকিৎসক হতে চেয়েছেন এবং সুযোগ পেয়েছেন কারণ অ্যাপটিটিউড টেস্টের মাধ্যমে তাঁরা প্রমাণ করেছেন তাঁদের সেসব মৌলিক গুনাবলী ও দক্ষতা রয়েছে যা একজন চিকিৎসকের থাকা উচিৎ।


মৌখিক পরীক্ষাগুলোতে পাশ-ফেল অনেকসময় নির্ভর করে অধ্যাপক ছাত্র বা ছাত্রীটিকে কতটা পছন্দ করেন তার উপর। রচনামূলক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরে ভূমিকা রাখে হাতের লেখা। সপ্তাহে ছয় দিন সাত ঘন্টা করে ক্লাস কতটা যুক্তিসংগত এবং সাপ্তাহিক অন্তত তিন থেকে চারটি করে পরীক্ষা কতটা বৈজ্ঞানিক ও ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে উপকারী বা ক্ষতিকর তা ভাবা হয় না। বরং প্রচন্ড চাপ নেয়াটাকে একটি গুণ হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের মতামত (Feedback) নেয়ার কোন সংস্কৃতি নেই। এমনকি ছাত্রছাত্রীদের মানসিক অবস্থার ব্যাপারে মেডিকেল কলেজগুলো যত্নশীল নয়।

এখানে আগের কোন পরীক্ষায় প্রাপ্ত গ্রেডের কোন ভূমিকা নেই। একই সাথে নেই প্রশ্ন ফাঁসের কোন ঝুঁকি বা কোচিং ব্যবসার সুযোগ।

বাংলাদেশের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ চিকিৎসা শিক্ষা শুরু হয় মানব শরীরতত্ত্ব (Anatomy), শরীরক্রিয়া (Physiology) ও প্রাণরসায়ন (Biochemistry) পড়ানো দিয়ে, এবং এই পড়াশুনা পুরোপুরি মুখস্থবিদ্যা নির্ভর। উন্নত বিশ্বের কোথাও এই বিষয়গুলো এখন আর আলাদাভাবে পড়ানো হয় না, ততটুকুই পড়ানো হয় যা রোগশিক্ষায় (Pathology) ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া বুঝতে কাজে লাগে। আশ্চর্যজনকভাবে বাংলাদেশের চিকিৎসা ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের পুরো চিকিৎসা শিক্ষার চল্লিশ শতাংশ (প্রথম ২৪ মাস তথা দুই বছর) সময়ে রোগীর সাথে কথা বলা সংক্রান্ত কোন অনুশীলন করেন না। এই পুরো সময়টাই ব্যয় হয় মৌলিক বিজ্ঞান মুখস্থ করে, এবং গতানুগতিক মৌখিক ও রচনামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে।

বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রচন্ড চাপে রাখাকে ভালো পড়াশুনার মানদণ্ড মনে করা হয়। মৌখিক পরীক্ষাগুলোতে পাশ-ফেল অনেকসময় নির্ভর করে অধ্যাপক ছাত্র বা ছাত্রীটিকে কতটা পছন্দ করেন তার উপর। রচনামূলক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরে ভূমিকা রাখে হাতের লেখা। সপ্তাহে ছয় দিন সাত ঘন্টা করে ক্লাস কতটা যুক্তিসংগত এবং সাপ্তাহিক অন্তত তিন থেকে চারটি করে পরীক্ষা কতটা বৈজ্ঞানিক ও ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে উপকারী বা ক্ষতিকর তা ভাবা হয় না। বরং প্রচন্ড চাপ নেয়াটাকে একটি গুণ হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের মতামত (Feedback) নেয়ার কোন সংস্কৃতি নেই। এমনকি ছাত্রছাত্রীদের মানসিক অবস্থার ব্যাপারে মেডিকেল কলেজগুলো যত্নশীল নয়। যে কারণে প্রতি বছর অনেক মেডিকেল ছাত্র-ছাত্রীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। তৃতীয়-চতুর্থ-পঞ্চম বর্ষে রোগীর সাথে কথা বলার চর্চা শুরু হলেও তা আন্তর্জাতিক গবেষণা ও মানদণ্ড অনুসরণ করে শেখানো হয় না। ফলে বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত বেশিরভাগ চিকিৎসকেরই রোগীর সাথে আলাপচারিতার ও ব্যবহারের যথাযথ প্রশিক্ষন হয় না। এর পিছনে দায়ী চিকিৎসা নীতিনির্ধারকদের পরিবর্তন মেনে নিতে না চাওয়ার প্রবণতা।

বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার পুরো উল্টো চিত্র দেখা যায় অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য উন্নত দেশে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম বর্ষের প্রথম সপ্তাহ থেকেই রোগের ইতিহাস নেয়া (History taking), পারস্পরিক আলাপ (communication) এবং রোগীকে তথ্য জানানোর অনুশীলন শুরু করানো হয়। এখানে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক অবস্থার প্রতি অন্ত্যন্ত যত্নশীল থাকা হয়। প্রতিবছর পাঠদানের উপর ছাত্রছাত্রীদের মতামত নেয়া হয় এবং তার আলোকে পরের বছর পাঠপ্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়। প্রথম বছর থেকেই পরীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য থাকে রোগীর সাথে কথা বলা এবং রোগীর প্রতি মমত্ববোধ প্রদর্শনে একজন ছাত্র দক্ষতা অর্জন করেছেন কিনা তা যাচাই করা। মুখস্থবিদ্যা নির্ভর কোন পরীক্ষা পদ্ধতি এখানে নেই, নেই কোন মৌখিক পরীক্ষা। চিকিৎসা শিক্ষা গবেষণা অনুসরণ করে প্রতিবছর শিক্ষা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। প্রথম বছর থেকেই শুরু হয় রোগী পরীক্ষা সংক্রান্ত পড়াশুনা ও পরীক্ষা, যা বাংলাদেশে অনুপস্থিত।

বাংলাদেশের মতো আমেরিকা, ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ায় কোন রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা শিক্ষা নীতি মানা হয় না। বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বতন্ত্র চিকিৎসাশিক্ষা পরিকল্পনা প্রনয়ণ করে এবং গবেষণার ভিত্তিতে প্রতিবছর পাঠদানে পরিবর্তন এনে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলে।

বিদেশে চিকিৎসা শিক্ষার প্রধান ভিত্তি হচ্ছে ‘প্রব্লেম-বেসড লারনিং’ (Problem-based Learning) বা সমস্যা সমাধান অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষা। এই প্রক্রিয়ায় আট থেকে নয়জন ছাত্র-ছাত্রীর ছোট ছোট দল তৈরী করা হয়, তাঁদের একাধিক চিকিৎসা সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা দেয়া হয় এবং প্রতি সপ্তাহে দু’টি ক্লাসের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান বের করে আনতে বলা হয়।

ছাত্রছাত্রীরা নিজেরা আলোচনা করে এসব সমস্যার সমাধান করেন। এই আলোচনায় সবাইকে সমানভাবে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করা হয়, এবং শিক্ষক কোন কিছু সরাসরি শেখানো থেকে বিরত থাকেন। বরং কোনকিছুর উপর ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান পরিষ্কার না থাকলে তা সে ক্লাসেই পাঠ্যপুস্তক বা ইন্টারনেট থেকে সবাইকে একসাথে পড়তে বলা হয়।

ছাত্রছাত্রীদের দলগত আলোচনায় পারস্পরিক সম্নান অক্ষুণ্ণ রাখতে বলা হয়। শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের মতামতকে প্রাধান্য দেন। এই শিক্ষাপদ্ধতির কেন্দ্রে থাকে ছাত্রছাত্রীরা, শিক্ষক নন। শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের সম্মান দেন এবং শেখান এই পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের চর্চা যেন সবাই চিকিৎসক হিসেবেও রোগী, রোগীর স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি বহাল রাখেন। সরাসরি কিছু শেখানো থেকে বিরত থেকে একজন শিক্ষক এই শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের আজীবন নিজ থেকে জ্ঞান আহরণের অভ্যাস তৈরী করতে সাহায্য করেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষা পুরোপরি শিক্ষদের লেকচার বা বক্তৃতা নির্ভর। এখানে শিক্ষক সকল শিক্ষাদান পরিকল্পনার কেন্দ্রে, ছাত্রছাত্রীরা নন। ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকের দেয়া লেকচার লিখে রাখেন এবং সেটি মুখস্থ করে পরীক্ষায় লিখে বা বলে পাশ করেন।

মুখস্থবিদ্যার সংস্কৃতির কারণে অনেকেই নোট বই পড়ার দিকে ঝুঁকে পরেন। ‘প্রব্লেম-বেসড লারনিং’ এর কোন চর্চা বাংলাদেশে নেই। এর ফলশ্রুতিতে সদ্য পাশ করা ডাক্তাররা অনেক সময় দলগত ভাবে রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে পারেন না, নির্ভর করে থাকেন ঊর্ধ্বতন চিকিৎসকের নির্দেশনার উপর যেটি রোগীদের চোখে প্রায়ই ডাক্তারদের আত্মবিশ্বাস ও যোগ্যতার অভাব হিসেবে প্রতিফলিত হয়। ছাত্র হিসেবে রোগের ইতিহাস নেয়া, পারস্পরিক আলাপ ও রোগীকে তথ্য জানানোর অনুশীলন না হওয়ায় অনেকেই রোগী ও তাঁর স্বজনের সাথে আলোচনা এড়িয়ে চলেন বা সুসংগঠিত আলোচনা করতে পারেন না। চিকিৎসা পরিকল্পনা বা রোগীর শারীরিক জটিলতার কথা ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে না পারার কারণে হয় অকারণ ভুল বোঝাবুঝি। সবকিছুর ফলশ্রুতিতে দেখা দেয় চিকিৎসকদের প্রতি রোগীর আস্থার সঙ্কট।

বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় পারস্পরিক সম্মান জানানোর সংস্কৃতির অভাব প্রকট। এখানে শিক্ষকেরা রোগীদের সামনে প্রায়ই ছাত্রছাত্রীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। সরকারী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা বেসরকারী মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের অযোগ্য মনে করেন। অনেক সময় ছাত্রছাত্রীদের সামনেই এক শিক্ষক অন্য শিক্ষকের সমালোচনা করেন। সাথে রয়েছে চিকিৎসকদের মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শের সংঘর্ষ। এই সবকিছু তরুণ চিকিৎসকদের ভিতর হতাশার জন্ম দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এই হতাশার ফলশ্রুতিতে রোগী ও রোগীর স্বজনেরা শিকার হোন চিকিৎসকের দুর্ব্যবহারের, যা কোনভাবেই কাম্য নয়।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংবাদ মাধ্যমের সমালোচনা ক্ষেত্রবিশেষে চিকিৎসকদের করে তুলে বিক্ষব্ধ, ফলশ্রুতিতে রোগীর চিকিৎসাসেবা ব্যহত হয় এবং সবমিলিয়ে চিকিৎসাসেবার সম্মান ভুলুন্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো অনেক সময় অযাচিত মন্তব্য করে চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ককে জটিল করে তুলে। আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা সহজ কাজ নয়। তাই ঢালাওভাবে চিকিৎসকদের দোষ না দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোর উচিৎ সমস্যার মূলে গিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা। আমাদের চিকিৎসা নীতিনির্ধারকদের পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে চিকিৎসাশিক্ষা যুগোপযোগী করতে হবে যাতে বাংলাদেশ আরো দক্ষ চিকিৎসা জনগোষ্ঠী তৈরী করতে পারে। সংবাদ মাধ্যমগুলো এক্ষেত্রে জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। যুগোপযোগী চিকিৎসা সেবা পাওয়ার অধিকার আছে প্রতিটি বাংলাদেশীর। আমাদের বুঝতে হবে চিকিৎসকেরা সামগ্রিক চিকিৎসা কাঠামোর (Health system) একটি অংশ মাত্র। তাই কোন এক পক্ষকে আক্রমণ না করে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে সমস্যা সমাধানের উপর। চিকিৎসা কাঠামোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে শুধু চিকিৎসকদের সমালোচনায় মেতে থাকলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

আন্তর্জাতিক মানদন্ডের আলোকে বাংলাদেশের চিকিৎসা কাঠামো নিয়ে পরের পর্বে আরো আলোচনার আশা রাখি।

লেখক: সহযোগী প্রভাষক, নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া

আজসারাবেলা/রই/কলাম