বিপথগামী ছাত্রজীবন

প্রকৌশলী নাজিম সরকার

নাজিম সরকার: কলেজ-ভার্সিটিতে পড়াকালীন আমরা অনেকেই গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরি। পড়াশুনাতেও থাকি না, কো-কারিকুলার কাজেও থাকি না। ছাত্র থাকাকালীন নিজেকে ক্যাম্পাস কিংবা এলাকার কিং ভাবে অনেকে।
সিনিয়ররা জুনিয়রদের সাথে ভাব ধরে, জুনিয়ররা সিনিয়রদের এড়িয়ে চলে। যেন কেউ রাজা, কেউ প্রজা ক্যাম্পাসে। কেউ কাউকে সম্মান দিতে রাজী না। আবার জুনিয়রদের অনেকের কমনসেন্স থাকে কম, কাকে কিভাবে সম্মান দিতে হবে জানে না।
অনেক সময় কলেজ-ভার্সিটির স্টাফদেরকে স্যার ডাকা শুরু করে। সিনিয়ররা জুনিয়রদের পথপ্রদর্শক না হয়ে, ভয়প্রদর্শক হতে চায়।
.
কিন্তু জীবন শুরু হবে, পড়ালেখা শেষে। ছাত্রজীবনে আমরা কনসার্টে যাব, আড্ডা দিব, ঘুরব, কেউ কেউ মাদক আর নারী নিয়ে ব্যস্ত থাকব। এইসব নিয়েই দিন কাটে। নিজেকে হিরো বানাতেই ব্যস্ত থাকি সবাই।
যারা পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাদেরকে মফিজ বলে পিছনে নানা কটু কথা বলি। ছাত্রজীবনে কেউ শিখতে রাজী না, শুধু মজা-মাস্তি নিয়েই ব্যস্ত থাকি।

পাস করার পরে কিংবা ফাইনাল ইয়ারের শেষ মুহুর্তে অনেকের ক্যারিয়ারের চিন্তায় ঘুম আসে না। একটা জবের জন্য অনেকের কাছে ধরনা দেয়।
সিনিয়ররা কেউ হেল্প করে না, সরকার জব মার্কেট বাড়াচ্ছে না বলে কান্নাকাটি করে। কিন্তু ছাত্রজীবনে যদি ১০০জন সিনিয়রের সাথে সুসম্পর্ক থাকতো, তারাই আপনার জন্য একটা চাকরি ব্যবস্থা করে দিতে পারতো।
ছাত্রজীবনে যদি আপনি ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতন থাকতেন, পড়াশুনা করতেন কিংবা প্রস্তুতি নিতেন; তাহলে পাস করার পরে আর হাবুডুবু খেতে হতো না। স্কলারশিপ পাওয়ার প্রসেস, পাবলিক জব পেতে কি কি পড়া লাগবে, ব্যবসা করতে চাইলে কিভাবে শুরু করবেন; ইত্যাদি সম্পর্কে যদি ছাত্রজীবনে আপনি ক্লিয়ার আইডিয়া নিয়ে রাখতেন তাহলে পাস করে আর হতাশ হতে হয় না।
কিন্তু ছাত্রজীবনে আমাদেরকে কেউ শিখাতে চাইলেও শিখি না। ২-৩হাজার টাকা খরচ করে ট্রিটের ছবি আপলোড দেয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি কিন্তু ২০০টাকা দিয়ে একটা সেমিনারে যেতে রাজী না।
সারাদিন ঘরে বসে ফেসবুক চালাতে সমস্যা নাই, কিন্তু ২-৩ঘন্টার একটা ওয়ার্কশপে যেতে রাজী না। আমরা সবাই ভাবি পাস করলে যেকোন একটা জবে প্রবেশ করে সব শিখে নেব, তাই ছাত্রজীবনে শেখার দরকার নাই। কিন্তু জবে কেউ শিখাবে না, কেউ জব দিবে না; যদি আপনি ভার্সিটি থেকে শিখে না আসেন।
.
Survival for the Fittest….।
নামি-দামি ডিগ্রী, বড় বড় সার্টিফিকেট কিংবা বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করলেই পেশাজীবনে আপনি সুবিধা পাবেন; সেই যুগ অতীত হয়ে গেছে।
বাংলায় পড়াশুনা করা ছাত্ররাও এখন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট জানে। এসএসসি পাস করা ছেলেরাও এখন কন্সট্রাকশন ফার্ম খুলে টাকা কামাচ্ছে, তার অধীনে চাকরি করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার।
নিজের যোগ্যতা বৃদ্ধি করার, নিজেকে ব্রান্ড বানানোর সময় হচ্ছে ছাত্রজীবন। দেশের আর্থ-সামাজিক খাতে ইঞ্জিনিয়ারদের সম্মান ও সুযোগ সৃষ্টির জন্য আন্দোলন করার সময় ছাত্রজীবন।
ঘুমানোর জন্য অনেক সময় থাকবে হাতে।
ছাত্রজীবনে ২০টাকার বাংলা মাদকের জন্য পাগল না হলে, সময়মতো রেডিসন কিংবা ওয়েস্টিনে বসে শ্যাম্পেইন খেতে পারবেন।
একটা সিগারেটের জন্য কারো পিছে না ঘুরে, স্যারদের পিছনে ঘোরেন; কাজে আসবে। মেয়েদের জন্য আবেগী পোস্ট না দিয়ে, সারাদিন ফেসবুকে ট্রল এবং টিকটক নিয়ে পড়ে না থেকে; টিউটোরিয়াল দেখে কিছু শিখুন।
চাকরি আপনাকে খুঁজে মরবে!

লেখক: প্রকৌশলী এবং প্রতিষ্ঠাতা; স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ার্স