নীলক্ষেত উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’

সারাবেলা প্রতিবেদক: বছরব্যাপী দেশজুড়ে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে নিউজ পোর্টাল ‘আজ সারাবেলা’ ও ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’।

২৯ এপ্রিল সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নীলক্ষেত উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এই কার্যক্রমের সূত্রধর ও নারীবাদী লেখক জববার হোসেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ, রক্ত, জীবন, মা-বোনদেন সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই দেশের জন্ম। প্রাণ দিয়েছেন ৩০ লাখ শহীদ, সম্ভ্রম হারিয়েছেন ২ লাখ মা-বোন। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে মনে ধারণ করতে হবে। আর এই চেতনা ধারণ করলেই দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।

মূলত দেশ সম্পর্কে, নিজের শেকড় সম্পর্কে, নিজের পরিচয় সম্পর্কে জানানোর জন্যই এ কার্যক্রমের আয়োজন।

তিনি বলেন, আজ ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা জঙ্গিবাদে ঝুঁকে পড়ছে। এটা শুধু এখানে নয় সারা দুনিয়াব্যাপি হচ্ছে। এ দুর্ঘটনার মূল কারণ বিচ্ছিন্নতা। এই বিচ্ছিন্নতা নিজের কাছ থেকে, পরিবারের কাছ থেকে, সমাজের কাছ থেকে এমনকি দেশের কাছ থেকেও। সে জানে না তার পরিচয়, তার ইতিহাস, ঐতিহ্য। ফলে যে কোন ভুল স্রোতে সে গা ভাসায়।

জববার হোসেন আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে ভালভাবে জানলে সে কখনওই ভুল পথে যাবে না, বিভ্রান্ত হবে না। শিশু-কিশোরদের মাঝে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ এবং ইতিবাচক লক্ষে তাদের এগিয়ে দিতে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর বিকল্প নেই। আমরা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলি, দেশের কথা বলি। চাই দেশ এগিয়ে যাক। তাই বছরজুড়ে এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি আমরা।

সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রবি বলেন, পাকিস্তানের বৈষম্য বাঙালিরা মেনে নিতে চায়নি। দু’দেশের মধ্যে কোন সাংস্কৃতিক মিলও ছিল না। বাঙালির নিজস্ব ভাষা রয়েছে। ভূ-খণ্ড রয়েছে। কেন সে অন্যের অধীন থাকবে। প্রতিবাদ উঠেছিল এই বৈষম্যের। আর যিনি এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ ভাষণ দিয়ে সমগ্র বাঙালিদের একত্রিত করেছিলেন। সেই সময় অনেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বঙ্গবন্ধুর ডাকে। শুধু প্রতিজ্ঞা ছিল শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও এই দেশকে রক্ষা করতে হবে পাকিস্তানিদের হাত থেকে।

তিনি আরও বলেন, বাঙালি হিসেবে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস না জানা। তরুণ প্রজন্মকে, পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর মত মহান কাজটি করে যাচ্ছেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশন ও আজ সারাবেলা। এই কাজটি শুধু তাদের নয়, আমাদের সকলের প্রতিটি বাবা-মায়ের, শিক্ষকদের।

বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুঁড়ি নয়। সমুদ্র থেকে আমরা মহাকাশ বিজয় করেছি। পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান। মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেস ওয়ে, ফোরলেন সড়ক এখন বাস্তব। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আজ আমাদের উন্নয়নশীল দেশে উন্নতি ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণেই সম্ভব হয়েছে এই উন্নয়ন। মুক্তিযুদ্ধ আর জয়বাংলার চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কোনভাবেই এই চেতনা বিচ্যুত হওয়া যাবে না।

স্বাধীনতাবিরোধী, চেতনাবিরোধিরাই আজ উন্নয়নের বাধা। তাদের প্রতিহত করাও প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের জন্য জরুরি।

অনুষ্ঠান শেষে ‘আজ সারাবেলা’ ও সুচিন্তা’র পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের হাতে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও সিআরআই থেকে প্রকাশিত তিন পর্বের কমিক নভেল ‘মুজিব’ ও সুচিন্তা-আজসারাবেলা’র লোগো সম্বলিত ‘মগ’ তুলে দেন ‘আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জববার হোসেন ।

আয়োজিত কার্যক্রমের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/ক্যাম্পাস/মুক্তিযুদ্ধ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.