অবৈধ সোনা বৈধ করার মেলা!

সারাবেলা রিপোর্ট: দেশে সোনার খনি নেই, বৈধপথে আমদানিও হয় না। তারপরও দেশে বিপুল পরিমাণ সোনা প্রায় দিনই ধরা পড়ছে। সোনার দোকানেও সোনা পাওয়া যাচ্ছে চাহিদা মাফিক। ফলে সবাই জানেন, বাংলাদেশে যে সোনা পাওয়া যায় তার সিংহভাগই অবৈধ। বিষয়টি অবগত থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি কোনও সরকারই। ফলে সোনার উৎস নিয়ে প্রায়ই প্রশ্নের মুখে পড়েন দেশের সোনা ব্যবসায়ীরা। এই সমস্যা কাটাতে অবৈধ পথে আসা এসব সোনা কর দিয়ে বৈধ করার জন্য এবারই প্রথম সুযোগ দিচ্ছে সরকার। এ জন্য দেশে প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘স্বর্ণ মেলা’। এই মেলায় অবৈধ সোনা বৈধ করার সুযোগ পাবেন ব্যবসায়ীরা। আগামী ২৩, ২৪, ২৫ জুন হোটেল ইন্টারকনটিনেন্টালে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এই মেলায় ভরিপ্রতি এক হাজার টাকা দিয়ে চোরাচালানের সোনাও বৈধ করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা জানান, আমাদের দীর্ঘদিনের চেষ্টার ফলে আমরা সোনা ব্যবসার স্বীকৃতি পাচ্ছি। এ জন্য আমরা ‘স্বর্ণ মেলা’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর আমাদের সহযোগিতা করছে। এই মেলা মূলত সোনা বৈধকরণ মেলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি বলেন, ‘বিদেশে এ ধরনের মেলায় বিভিন্ন ধরনের স্টল বসে। কিন্তু আমাদের এই মেলায় কোনও স্টল বসবে না। এখানে কেবল অবৈধ সোনা বৈধ করার সুযোগ পাওয়া যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্বর্ণ মেলা’য় ভরিপ্রতি এক হাজার টাকা দিয়ে অবৈধ সোনা বৈধ করা যাবে। এ কারণে এটাকে আমরা ‘সোনা বৈধকরণ মেলা’ বলছি। এটি একটি বিশেষায়িত মেলা হওয়ায় এখানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না। এই মেলায় কেউ সোনা কেনাবেচার কোনও সুযোগ পাবেন না।

জানা গেছে, বুধবার (১২ জুন) ঢাকাস্থ অফিসার্স ক্লাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির যৌথ উদ্যোগে এই মেলা সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেছেন, সোনা নীতিমালা বাস্তবায়িত হওয়ার পেছনে গণমাধ্যমের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে, যা আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি। আমরা আশা করি আসন্ন ‘স্বর্ণ মেলা’ জাতীয় রাজস্বে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

এর আগে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি গঙ্গাচরণ মালাকার জানিয়েছিলেন, ‘‘নির্বাচনের পর দেশে একটি ‘স্বর্ণ মেলা’ করা হবে। সেখানে সরকারকে ট্যাক্স দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।’’ তিনি বলেন, ‘সরকার সোনা খাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি বছর ভ্যাট-ট্যাক্স নিলেও এতদিন ধরে সোনার বৈধ উৎস ছিল না। এখন আমরা বৈধ স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছি।

সোনা ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে বছরে সোনার চাহিদা ৩০ থেকে ৪০ টন। অথচ দেশে বৈধপথে সোনা আমদানি একেবারেই হয়নি। ফলে অবৈধ পথে আনা সোনা দিয়েই এই চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে।

এর আগে অবৈধ সোনা বৈধ করার সুযোগ দিয়ে ২৮ মে এনবিআর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রতি ভরি সোনা ও সোনার অলঙ্কারে এক হাজার টাকা, প্রতি ক্যারেট কাট ও পোলিশড ডায়মন্ডে ৬ হাজার টাকা এবং প্রতি ভরি রুপায় ৫০ টাকা আয়কর দিতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুইয়া স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অঘোষিত ও মজুত করা সোনা, রুপা ও হীরা সম্পর্ক ঘোষণা দিয়ে কর দিতে হবে। সোনা ব্যবসায়ীকে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিতে এবং রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এই প্রজ্ঞাপন ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ অক্টোবর সোনা নীতিমালায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

আজ সারাবেলা/সংবাদ/সিআ/অর্থনীতি

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.