আতঙ্কের মাঝে শান্তিপূর্ণভাবে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত বিএসএমএমইউতে

সারাবেলা রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সোমবার  (১০জুন) থেকে দুই শতাধিক চিকিৎসক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি-না তা নিয়ে নানা আশঙ্কা থাকলেও সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সকাল পৌনে ৯টা থেকে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২০ জন নিয়োগপ্রত্যাশী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ও কর্মসূচি চলাকালে তাদের ওপর বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়োগবঞ্চিত বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়াকে সভাপতি ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল হান্নানকে সদস্যসচিব করে গঠিত ১০ সদস্যের নিয়োগ কমিটি মৌখিক পরীক্ষা নিচ্ছে। দুপুর ১টা থেকে আরও ১৫ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত সাক্ষাৎকার চলবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বেলা ১১টায় সঙ্গে আলাপকালে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে জানিয়ে বলেন, গতকাল লিখিত পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে আজ তাদের বাধাবিপত্তির মুখে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় কি-না তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও পরীক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সময়মতো পরীক্ষা দিতে উপস্থিত হন। সকাল থেকে আন্দোলনকারীদের কাউকে দেখা যায়নি। পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বলে জানান তিনি।

আজ সোমবার সকালে সরেজমিন ভিসি ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, আনসার বাহিনীর একাধিক সদস্য প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এ প্রবেশপথে রোগী ও তাদের স্বজনকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ডাক্তার বা অন্য কারও পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তবেই প্রবেশ করতে দিচ্ছেন। দোতলায় উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে পুলিশি পাহারা দেখা যায়।

গতকাল বিকেল পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে উপাচার্যের পদত্যাগ ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের দাবিতে তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান গ্রহণ কবেন। কিন্তু সন্ধ্যার আগেই পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিয়োগ পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ একজন চিকিৎসক জানান, গতকাল সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এসে তাদের ন্যায্য আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের ব্যাপারে রাব্বানী তার অফিসিয়াল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। আজ সকাল বেলা তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বটতলায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও আনসারবাহিনীর সদস্যরা তাদের বের হতে দেননি বলে তারা জানান।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আজ থেকে শুরু হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষা প্রতিদিন সকালে ৩৫ জনের সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা থাকলেও আগামী শনিবার (১৫ জুন) থেকে আরও ১৫ জন করে অর্থাৎ প্রায় ৫০ জন পরীক্ষার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে।

নির্দিষ্ট সময় ৮ জুলাইয়ের আগেই মৌখিক পরীক্ষা শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া।

আজ সারাবেলা/সংবাদ/সিআ/রাজধানী

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.