ইউনিভার্সেল মেডিকেল নিয়ে ভুল তথ্য ও মিথ্যা অপপ্রচার

সিদ্দিক আশিকঃ ২১ জুন শুক্রবার ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তোলপাড়। অভিযোগ উঠেছে মৃত রোগীকে হাসপাতালে রেখে ২২ বার ডায়ালাইসিস করে বিল দেয়া হয়েছে ১০ লাখ। খবরটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে একের কাছ থেকে অন্যে । সবাই কেবল রোগীর লোকজনের দেয়া তথ্যে কান পাতলেও আজ সারাবেলা জানতে চেয়েছে প্রকৃত ঘটনা। জানা গেছে,  ১৪ মে ২০১৯ইং তারিখে মোঃ শহীদ উল্লাহ্ নামে ৫৭ বছর বয়সী একজন রোগী ভর্তি হন।তিনি মাল্টি অর্গান ফেইল্যূর সহ অনেক জটিলতায় ভুগছিলেন। রোগীর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন তাঁর স্বজনদের প্রতিদিন নিয়মিত দুই বেলা কাউন্সেলিং সহ বারবার অবহিত করেন। কিন্তু রোগীর ছেলে  কামাল শুরু হতেই উশৃঙ্খল আচরণসহ সকলের সাথে অশালীন আচরণ ও হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ তাঁর বাবা মারা যাওয়ার দুইদিন পূর্বে সে হাসপাতালে “বিল না দিয়ে রোগী নিয়ে যাব, দেখি হাসপাতাল কি করতে পারে!?” বলে হুমকি দিয়ে যান। হুমকির প্রেক্ষিতে গত ১৯ জুন ২০১৯ তারিখে তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীও করা হয় যার নং ৮৮১।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই প্রচারণা নিয়ে আজ সারাবেলা কথা বলেছিল ডা. আব্দুন নূর তুষারের সঙ্গে।তিনি বলেন, আই সি ইউ , মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কক্ষ। সেখানে মৃতকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব না। পৃথিবীর কোথাও না। মৃত রোগীর শরীর ফ্রিজে না রাখলে সেটা শক্ত হবে ও পরে পচন শুরু হবেই। আকাট মুর্খ কিছু লোক আইসিইউতে ২২ দিন মরা মানুষ রেখে তাকে ডায়ালাইসিস করানো হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়েছে। যে রোগীর হৃদযন্ত্র সচল নাই তাকে ডায়ালিসিস তাও ৫ দিনে ২৩ বার ? গন্ডমুর্খ লোকের পক্ষেই বলা সম্ভব।

প্রতিবাদ

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভ্রান্তিমূলক সংবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদগত ২১শে জুন ২০১৯, শুক্রবার ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুর পর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁর ছেলের নেতৃত্বে অত্র হাসপাতালে পরিচালিত তান্ডব, হাসপাতালের স্টাফগনকে মারধর ও রোগীর বিল পরিশোধ না করে জোরপূর্বক রোগী নিয়ে যাওয়া এবং তৎপরবর্তীতে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্যের মাধ্যমে কিছু মিডিয়াকে বিভ্রান্ত করে হাসপাতাল সম্পর্কে প্রচারিত অসত্য সংবাদ প্রচারের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।প্রকৃত ঘটনা :গত ১৪/০৫/২০১৯ইং তারিখে জনাব মোঃ শহীদ উল্লাহ্ ৫৭ বছর বয়সী রোগী মাল্টি অর্গাণ ফেইল্যূর সহ ভর্তি হন। চিকিৎসাকালে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাঁর ডায়াগনোসিস হয় ESRD on MHD with Type-I respiratory failure with Acute LVF ē Bilateral Pneumonia with unstable Angina with old CVD ē H/0- DM ē HTN. হাসপাতালের পক্ষ হতে তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি রোগীর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন তাঁর স্বজনদের প্রতিদিন নিয়মিত দুই বেলা কাউন্সেলিং সহ বারবার অবহিত করেন। কিন্তু রোগীর ছেলে জনাব কামাল শুরু হতেই উশৃংখল আচরণসহ সকলের সাথে অশালীন আচরণ ও হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ তাঁর বাবা মারা যাওয়ার দুইদিন পূর্বে সে হাসপাতালের একজন লেডি অফিসারের সাথে অশালীন ও আপত্তিকর আচরণ করেন এবং হাসপাতালের “বিল না দিয়ে রোগী নিয়ে যাব, দেখি হাসপাতাল কি করতে পারে!?” বলে হুমকি দিয়ে যান। তাঁর হুমকির প্রেক্ষিতে গত ১৯/৬/২০১৯ তারিখে তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী(GD) করা হয় যার নং ৮৮১।গত ২১ জুন,২০১৯ তারিখের চিকিৎসকগনের শত চেষ্টার পরেও হাসপাতালের সিসিইউ তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর বাবা মারা গেলে সে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিল না দেওয়া হীন মানসে হাসপাতালে ত্রাস সৃষ্টি সহ শতশত বহিরাগতদের দিয়ে তান্ডব ও অরাজক পরিস্থিতি ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সে ঐ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক নার্স ও কর্তৃপক্ষকে জিম্মি করে “বিল না দিয়ে” রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই তাদের বহিরাগত লোকজনকে খবর দিয়ে রাখে এবং রোগী মারা যাবার আধ ঘন্টার মধ্যেই শতশত লোক হাসপাতালে ভীড় করে। যদিও রোগীর বাড়ি ঢাকার বাইরে (লক্ষ্মীপুর)!তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে মিডিয়াকে খবর দেয় এবং তাঁর দেওয়া ভুল ও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন চ্যানেল, প্রিন্ট ও অনলাইন সমূহে একতরফা, নেতিবাচক, ভিত্তিহীন, অবৈজ্ঞানিক, হাস্যকর সংবাদ প্রচারিত হয়। এই নিউজ এর ফলে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং হাসপাতালের সুনাম সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। উল্লেখ্য যে, রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নেফ্রোলজিষ্ট এর নির্দেশনা অনুসারে উক্ত রোগীকে এই ৩৮ দিনে মোট ১৮টি প্রয়োজনীয় ডায়ালাইসিস দেওয়া হয়েছে। ২০দিনে ২২টি ডায়ালাইসিস দেওয়া হয়েছে মর্মে বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা।ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (প্রাক্তন-আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল) দেশের একটি বেসরকারী ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেইজড জেনারেল হাসপাতাল যেখানে সারাদেশ থেকে জটিল মুমূর্ষু রোগীগণ উন্নত চিকিৎসারজন্য আসেন এবং সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ দেশের স্বনামধন্য সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্র এই হাসপাতাল। উক্ত ঘটনার ফলে তাঁরাও মারাত্মকভাবে অসম্মানিত হয়েছেন। আশাকরি আমাদের দেওয়া প্রকৃত তথ্যের মাধ্যমে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর হবে। ধন্যবাদান্তেকর্তৃপক্ষইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল

Posted by Universal Medical College Hospital on Tuesday, June 25, 2019

তাই ইউনিভার্সাল হাসপাতালে মরা রোগীকে ২২ দিন হাসপাতালে আইসিইউ তে রাখা, ৫ দিনে ২৩ বার মৃতকে ডায়ালাইসিস করা জাতীয় জঘন্য মিথ্যাচার , একধরনের অসুস্থ মানসিকতার মুর্খের প্রলাপ।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিল না দেয়ার অসৎ উদ্দেশ্য থেকেই মূলত এমন অভিযোগ। যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা একেবারেই যুক্তিহীন এবং যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে সম্ভব নয় এমন একটি ব্যাপার।তিনি ভর্তি হয়েছিলেন মাল্টি অর্গান ডিসফাংশন নিয়ে।তার পরিবারকে বারবার জানানোও হয়েছিল।তিনি যে বিল দিতে চান না, এমন হুমকিও আগে দিয়েছিলেন।পরে গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করে অনেকটা হুজুগে খবরটি রটিয়ে দেয়া হয় যা অনৈতিক। চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আস্থাহীন করার জন্য এটা একটা চক্রান্ত বলে মনে করি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.