গোপনীয় সামরিক তথ্য সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ

সারাবেলা রিপোর্টঃ দু’দেশের মধ্যে বিনিময় হওয়া গোপনীয় সামরিক তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব সংলাপে এই অনুরোধ জানানো হয়।

বুধবার ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ১০-১২ জুন ওয়াশিংটনে বংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অংশীদারিত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ডেভিড হেইল। সংলাপে দু’দেশের সরকার নিরাপত্তা, উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগকালীন ত্রাণ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে টেকসই অংশীদারিত্বের বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। দু’দেশের সরকার একটি অবাধ, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চালাতে একমত হয়।

সংলাপে উভয়পক্ষ সন্ত্রাসবাদের অব্যাহত চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তাগত লক্ষ্য পূরণের প্রচেষ্টার পাশাপাশি মানবাধিকারবিষয়ক বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলার ওপর গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দু’দেশের মধ্যে বিনিময় হওয়া গোপনীয় সামরিক তথ্যের সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানায়। বাংলাদেশ এ আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সভায় দু’দেশের সরকার সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো পরস্পরকে অবহিত করে। এ বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্র খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রপক্ষ কংগ্রেসের অনুমোদনসাপেক্ষে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে সমুদ্রসীমা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, জলদস্যুতা প্রতিরোধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশকে নিরাপত্তা সহায়তা বাড়ানোর অঙ্গীকার করে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা অভিযানে বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় ভূমিকার প্রশংসা করে।

দুই প্রতিনিধিদল একটি অপারেশনাল-লেভেল আনম্যানড এয়ারক্রাফট সিস্টেম (ইউএএস) বিষয়ক যৌথ অঙ্গীকারটিও সভায় তুলে ধরে। জাতিসংঘ বাহিনীতে সেনা সরবরাহকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও সক্ষমতা গঠনে সহায়তাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এতে যৌথভাবে ভূমিকা রাখবে। গত মার্চে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ওই অঙ্গীকার করা হয়েছিল।

সংলাপে মিয়ানমার থেকে আসা দশ লাখের বেশি শরণার্থীকে অব্যাহতভাবে আশ্রয় দিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের আন্তরিকতার প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রকে তার অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের এ সহায়তার মধ্যে রয়েছে- ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে মানবিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া ৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা।

ওয়াশিংটন সংলাপে যুক্তরাষ্ট্র -বাংলাদেশ সরকার স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোর জনগণের পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে কাজ করতে একমত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ৮ম অংশীদারিত্ব সংলাপ আগামীতে সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.