ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের প্রতিক্রিয়া
বড় বাজেট তবে কঠিন হবে বাস্তবায়ন

এটি বড় বাজেট। এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। তবে এটি বাস্তবায়ন কঠিন হবে। মূল যে সমস্যা হবে তা হলো—এখানে আয়ের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে তথা রাজস্ব আহরণের কথা বলা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত নয়। কর আহরণ তথা পরোক্ষ করের বড় যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা অর্জন হবে না। ভ্যাট আইন করা হয়েছে। কিন্তু তা ছাড় দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এনবিআরের নিজস্ব সক্ষমতারও কোনো উন্নতি হয়নি গত পাঁচ থেকে সাত বছরে। ফলে এনবিআরের পক্ষে রাজস্ব আদায়ের এত বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরেও রাজস্ব অর্জনের টার্গেটের থেকে অনেক পিছিয়ে আছে এনবিআর। অন্যদিকে বড় বাজেটে ঘাটতি বড় ধরা হয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাতের ওপর বেশি নির্ভরশীলতা রাখা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাবে। এমনিতেই ব্যাংকিং খাতে এখন তারল্য সংকট চলছে। একই কারণে ঋণের সুদহারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণ না বাড়লে বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হবে। এতে নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে না, কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে। ব্যাংক ও আর্থিক খাত নার্ভের মতো। এটা ঠিক করতে তথা সুশাসন ফেরাতে পৃথক ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা জরুরি। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না দেওয়াটা দুঃখজনক। উনি বলেছেন (অর্থমন্ত্রী), আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। তাঁর এ ধরনের বক্তব্য দায়সারা।

লেখক : সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.