বিদায় গিরিশ কারনাড: শেষ সালাম

রফিক সুলায়মান: ভারতের আধুনিক নাট্যধারার অন্যতম চরিত্র গিরিশ কারনাড আর নেই। ৮১ বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন। দীর্ঘদিন রোগশয্যায় কাটিয়েছেন।

তাঁর নাটকের বিষয় সমকালীন সমস্যার ঐতিহাসিক পরম্পরার চিত্রায়ন। ভারতে এরকম নাটক এর আগে খুব বেশী রচিত হয় নি। চলচ্চিত্রেও হাত পাকিয়েছিলেন চিত্রনাট্যকার এবং অভিনেতা হিসেবে। ইব্রাহিম আল কাজী, আলেক পদমসী প্রমুখ নাট্যগুণী তাঁর প্রতিভাকে মেনে নিয়েছিলেন অকুণ্ঠচিত্তে।

ঢাকার নাট্যমঞ্চে একসময় তাঁর ‘তুঘলক’ নিয়মিত মঞ্চস্থ হতো ৮০ ও ৯০ দশকে। গণতন্ত্র আসার পর পর নাটকের দর্শক কমেছে। নাট্যকর্মীরাও আর ভালো নাটক আনেন না নাটকপাড়ায়।

কানাড়া সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করতেন। হিন্দি সিনেমায় অনিয়মিত। সেকালের ‘স্বামী’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় কে ভুলতে পারবে! গত এক দশকে নাগেশ কুকনুর এবং সালমান খানের কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। কুকনুরের ‘ইকবাল’ চলচ্চিত্রে ক্রেজি ক্রিকেট কোচের চরিত্রে তাঁর অভিনয় ভোলার মত নয়। নাসিরউদ্দিন শাহ এবং কারনাড পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন এই ছবিতে। সালমানের এক থা টাইগার এবং টাইগার জিন্দা হ্যায় – দুটোতেই তিনি ছিলেন গোয়েন্দা চিফ শেনয়ের ভূমিকায়।

সম্প্রতি রবীন্দ্রনাথের নাটক নিয়ে তিনি খোলাখুলি মতামত রেখেছেন, যা বাংলায় সমালোচিত হয়। তিনি রবীন্দ্রনাথকে মধ্যম মানের নাট্যকার বলেছিলেন। এর আগে ভিএস নাইপলকে ধুয়েছিলেন ‘পাথুরে বধির’ বলে। রবীন্দ্রনাথ সমাজের দরিদ্র শ্রেণিকে উপেক্ষা করেছেন বলে তিনি মনে করেন। তিনি গিরিশচন্দ্র ঘোষকে রবীন্দ্রনাথের চেয়েও বড় নাট্যকার মনে করতেন। আর ভিএস নাইপল ভারতের মুসলিম শ্রেণিকে উপেক্ষা করেছেন।

নাট্যকলায় তাঁর ভূমিকা স্বীকৃত হয়েছে ভারতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গণে। ভারতের সর্বোচ্চ জ্ঞানপিঠ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ১৯৯৮ সালে। পেয়েছেন পদ্মশ্রী এবং পদ্মভূষণ।

এই মহান নাট্যজনের প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

আজ সারাবেলা/সংবাদ/সিআ/শিল্প সাহিত্য

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.