বুদ্ধিতেই পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ

স্পোর্টস ডেস্কঃ ওই বলটা কাটিয়ে দিতে পারলেই আর দেখতে হতো না। ম্যাচটা হেসে খেলে জিততে পারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু মিচেল স্টার্কের অনায়াসে এড়ানোর মতো বাউন্সারটাতেই হুক করতে ইচ্ছে হলো জেসন হোল্ডারের। অ্যাডাম জাম্পা ক্যারিয়ারে এমন সহজ ক্যাচ খুব কম ধরেছেন।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ২৮৯ রানের লক্ষ্য। ১০ ওভারে ৬৮ রান দূরত্বে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪ উইকেট হাতে নিয়েও সে কাজ করতে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কারণ অ্যারন ফিঞ্চের আক্রমণাত্মক অধিনায়কত্ব ও উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের বুদ্ধিতে শান দেওয়ার অভাব। স্টার্কের শেষ স্পেলের জবাব না পেয়ে ১৫ রানে হারল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

৫ ওভার বাকি থাকা অবস্থায় স্টার্ককে বোলিংয়ে আনলেন ফিঞ্চ। ধারাভাষ্যকক্ষে থাকা মাইকেল ক্লার্কের খুবই পছন্দ হলো সিদ্ধান্তটি। আক্রমণাত্মক অধিনায়কত্বের জন্য বিখ্যাত ক্লার্কের পছন্দ হবেই এ সিদ্ধান্ত। ভরসা রাখার মতো একমাত্র বোলারের শেষ দুই ওভারের জন্য ৪৮ ও ৫০ ওভার নির্ধারণ করেন সবাই। রক্ষণাত্মক কোনো অধিনায়ক হলে তাই করতেন। কিন্তু ফিঞ্চের তখন উইকেট দরকার।

৫ ওভারে দরকার ৩৮ রান। উইকেটে কার্লোস ব্রাফেট ও জেসন হোল্ডার। বল গ্যালারিতে পাঠানোয় তাদের চেয়ে ভালো খুব কম ব্যাটসম্যানই আছেন। স্টার্কের ওই ওভারটা তাই পার করে দিলেও খুব একটা ক্ষতি হতো না। কারণ কোল্টার নাইলের বলে ভরসা দেখার মতো কিছু ছিল না। ম্যাক্সওয়েলকে দুই হিটারের সামনে আনা সম্ভব নয় ফিঞ্চের পক্ষে। আর স্টয়নিস তো ম্যাচে করেছেনই মাত্র ২ ওভার, তাতে দিয়েছেন ১৪ রান। কিন্তু তৃতীয় বলটা লো ফুলটস দেখে আর লোভ সামলাতে না পেরে ছক্কা মারতে গেলেন ব্রাফেট। ফিঞ্চ নিজেই সাহসী অধিনায়কত্বের পুরস্কার বুঝে নিলেন। পরের দুই বল হোল্ডার কোনোমতে পার করলেন। শেষ বলটাও তা করতে পারলেই হতো। কিন্তু হোল্ডার সামলাতে পারলেন না।

মূল সব ব্যাটসম্যান শেষ হতেই ফিঞ্চ আনলেন মার্কাস স্টয়নিসকে। ম্যাচে এর আগে মাত্র ২ ওভার বল করা স্টয়নিস চাপমুক্ত হয়ে টানা স্টাম্প টু স্টাম্প বল করে গেলেন। সে সব বলকে সীমানা ছাড়া করার মতো কেউ যে আর ছিলেন না। পরের ওভারে আবার এলেন স্টার্ক। একটি লেগবাই দিয়ে আরেকটি উইকেট বুঝে নিলেন। ম্যাচে ৫ উইকেট (৪৬ রানে) হয়ে গেল স্টার্কের। ৩ ওভারে ৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজও ম্যাচ থেকে ছিটকে গেল।

৪৯তম ওভারে স্টয়নিস আবারও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ১ রান দিলেন। শেষ ওভারে বল করার দায়িত্ব পেলেন ব্যাট হাতে ৯২ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলা কোল্টার-নাইল। তাঁর শেষ ৪ বলে ৪টি চার মেরে অ্যাশলি নার্স শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমালেন না, ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক হোল্ডারের দুঃখটাও বাড়ালেন। স্টার্কের দুই ওভার টিকে থাকলেই যে ম্যাচটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনায়াসে জিতত সেটা আবারও বুঝিয়ে দিলেন নার্স।

এর আগে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় ছিল আম্পায়ারদের ভুল। এক গেইলকে দুইবার ভুল আউট দিয়েছেন আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফনি। দুটিই ছিল স্টার্কের দ্বিতীয় ওভারে। রিভিউ নিয়ে দুবারই সিদ্ধান্ত বদলেছেন ক্রিস গেইল। পরে স্টার্কের তৃতীয় ওভারে আবারও গেইলকে এলবিডব্লু দেন গ্যাফনি, ওই স্টার্কের বলেই। সেবার আর সিদ্ধান্ত বদলায়নি, আম্পায়ার্স কল ছিল সেবার। এর পরের ভুলগুলো অন্য আম্পায়ার রুচিয়া পালিয়াগুরুগের। এই আম্পায়ার একবার ম্যাক্সওয়েল ও অন্যবার জাম্পার বলে আউট দিয়েছিলেন জেসন হোল্ডারকে। দুবারই ভুল প্রমাণিত হয়েছেন আম্পায়ার।

এর মাঝেই শাই হোপ (৬৮), নিকোলাস পুরান (৪০), শিমরন হেটমায়ার(২১) ও হোল্ডাররা (৫১) ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অনায়াস জয়ের পথ দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু বুদ্ধির প্রয়োগেই যে ঘাটতি ছিল দলটির।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.