‘শিল্পীদের সুখ-দু:খ বোঝার মতো মানসিকতা আমার আছে’

সারাবেলা রিপোর্টঃ ২০১৯-২১ মেয়াদে অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শহীদুজ্জামান সেলিম। প্রথমবারের মতো অভিনয় শিল্পীদের নেতৃতে এলেন এই অভিনেতা।  এই নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত তিনি। এ প্রসঙ্গে বলেন, শিল্পীরা আমাকে ভালোবেসে নির্বাচিত করেছেন। তাদের ভালোবাসার কাছে আমি ঋনি হয়ে গেলাম। আমি আমার সবটুকু দিয়ে শিল্পীদের স্বার্থে কাজ করবো। যে কোনো ভালো-মন্দে তাদের পাশে থাকবো। এই সংগঠনের সঙ্গে আপনার শুরু থেকেই অংশগ্রহণ ছিল। শুরুর দিকের কথা বলবেন? সদ্য নির্বাচিত সভাপতি বলেন, শুরুতে আমি, আজিজুল হাকিম, তৌকীর আহমেদ, জাহিদ হাসান চারজন মিলে অভিনয় শিল্পী সংঘের স্বপ্ন দেখেছিলাম।

আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে ১০৬ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই সংগঠনের। মাঝে নানা কারণে বেশ লম্বা একটা সময় নিষ্ক্রিয় ছিল। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় অভিনয় শিল্পী সংঘের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন।

ভাবতে ভালো লাগছে এখন এই সংগঠনের আকৃতি অনেক বড় হয়েছে। বর্তমানে সংগঠনের ভোটারই আছে ৬০৬ জন। সদস্য আরও বেশি হবে। শপথ গ্রহণ করে দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনার প্রথম পরিকল্পনা কী? এই প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, প্রথমেই আগের অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করবো। এছাড়া শিল্পীদের যে নানা সমস্যা আছে সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেব। কাজের ক্ষেত্র সমবন্টন, পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণ এবং কাজের সময় নির্ধারণের পদক্ষেপ নেব। শিল্পীদের কর্মঘন্টা নির্ধারণ করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। টেলিভিশনের দিক থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এই জায়গায় কাজ করতে চাই। দর্শকেরা যেন আবার এদিকে দৃষ্টি ফেরান তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে বসে দ্রুত করতে চাই। একনিষ্ঠতার সঙ্গে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবো।

আমিও একজন শিল্পী। শিল্পীদের সুখ-দু:খ বোঝার মতো মানসিকতা আমার আছে। নির্বাচনের আগে বলেছিলেন জাতীয়  টেলিভিশন পুরস্কারের কথা। এই বিষয়টি একটু পরিষ্কার করবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের টিভি নাটকের বাজার এখন আগের চেয়ে অনেক বড়। নাটক শুধু এখন টিভির জন্য নির্মাণ হচ্ছে না। অনেক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এসেছে। সেখানে নাটক যাচ্ছে। কিন্তু এখানে সরকারী ভাবে কোনো  স্বীকৃতি নেই। এ প্রসঙ্গে শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবো। জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার চালুর জন্য আমরা কাজ করে যাব। আমাদের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আছে। তেমন আদলেই এটি করতে চাই। নির্বাচনের আগের দিন বেশ জটিলতা তৈরি হয়েছে। আদালতেরও নির্দেশ ছিল। এ অবস্থায় নির্বাচন করাটা ঝুঁকি হয়ে গেল না? নির্বাচন পরবর্তি সময়ে কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন? সেলিম বলেন, সত্যি কথা বলতে কি, আমরা ফেসবুক ও বেশ কিছু গণমাধ্যমে দেখেছি এমন খবর।

নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু আমাদের কাছে এ বিষয়ে আদালতের কোনো চিঠি আসেনি। নির্বাচন কমিশন ও সংঘের অফিসেও আসেনি। চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনারের নির্বাচন প্রক্রিয়া থামানোর কোনো কারণই ছিল না। আমাদের সদস্যরা উন্মুখ হয়েছিল ভোট দেওয়ার জন্য। এই বিষয়ে এখন আর কোনো জটিলতা নেই বলে আমি মনে করি। টিভি নাটকের ব্যস্ততায় মঞ্চে আগের মতো সময় দিতে পারছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেন, এ কথা সত্যি, টিভি নাটকের ব্যস্ততায় মঞ্চে আগের মতো সময় দিতে পারছি না। কিন্তু শত ব্যস্ততার পরও মঞ্চের জন্য আলাদা করে সময় রাখি। নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই এটা করি। সেই ধারাবাহিকতায় এ মাসের ৩০ তারিখে ‘ধাবমান’ নাটকের মঞ্চায়নে সময় দেব।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.