সিরাজুল আলম খান ‘ইতিহাস বিকৃতি’ করছেন বলে জানালেন তোফায়েল আহমেদ

সারাবেলা রিপোর্টঃ চলতি বছরের ২ মার্চ ‘স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় জেএসডির সভাপতি আ স ম রব বলেন, স্বাধীনতার মূল পরিকল্পনাকারী সিরাজুল আলম খান।পতাকা তৈরির উদ্যোক্তা, ২ মার্চ পতকা উত্তোলনের উদ্যোক্তা, ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার বা স্বাধীনতার ঘোষণার উদ্যোক্তা, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, বঙ্গবন্ধু উপাধি যে মানুষটি পরিকল্পনা করেছেন তার নাম হচ্ছে সিরাজুল আলম খান। সেই মানুষটিকে কি আমরা স্মরণ করব না, ইতিহাসে কি তাকে মূল্যায়ন করব না?’

এরপর গত কয়েকদিন থেকে আলোচনায় ফের রয়েছেন সিরাজুল আলম খান।গত বুধবার মাওলা ব্রাদার্স থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়,শামসুদ্দিন আহমেদ পেয়ারা অনুলিখনকৃত সিরাজুল আলম খানের বই ‘ আমি সিরাজুল আলম খান’ বইটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সিরাজুল আলম খান বইতে লেখেন, ‘ঘটনাক্রমে একদিন আমি, আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদ একসঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে।আমরা দশ বছরের মধ্যে পূর্ব বাংলাকে স্বাধীন করব, এ সংকল্প নিয়ে কাজ শুরু করি। কিন্তু নয় বছরের মাথায়ই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।নিউক্লিয়াসের রাজনৈতিক উইং হিসেবে বিএলএফ (বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স) গঠন করা হয়।সেখানে পরবর্তীতে শেখ ফজলুল হক মণি ও তোফায়েল আহমেদ যুক্ত হন। কাজী আরেফ আহমেদ ছিলেন বিএলএফের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান। ’৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে বিএলএফ এবং তার সামরিক উইং ‘জয় বাংলা বাহিনী’।’

বইয়ের আছে,‘ ১৯৬৬ সালে একদিন শেখ ফজলুল হক মণি তাকে বললেন, দোস্ত চল এক জায়গায় যাব। নিয়ে গেল আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অফিসে। সেখানে এর আগে একবার শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন তাকে নিয়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ করিয়ে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন ছিলেন ওই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার ।সেই প্রথম স্বাধীনতার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা করেন সিরাজুল আলম খান।’ সিরাজুল আলাম খানের বইয়ে লেখা এসব তথ্যের প্রতিবাদ করেছেন আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ।তিনি গত ১১ জুন বলেন,‘ ছাত্রলীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে বা স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসেও এসবের নামগন্ধ নেই।’

‘বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয় দফার প্রতি আওয়ামী লীগের সমর্থন ছিল না; এবং সংবাদপত্র, এমনকি ইত্তেফাকও প্রচারে ভূমিকা রাখেনি’ বলে সিরাজুল আলম খান যে কথা বলেছেন এ বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘নির্জলা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। ‘সিরাজুল আলম খান ’৬৬ সালের ৭ জুনের হরতাল প্রসঙ্গে বলেছেন, তাঁরা নিউক্লিয়াস থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন এবং তিনি একটি টুলের ওপর দাঁড়িয়ে হরতালের ঘোষণা দিয়েছেন। যেখানে সাতজন শ্রোতা ও তার দ্বিগুণ গোয়েন্দা সংস্থার লোক ছিল। এ বিষয়ে তোফায়েল বলেন, আসলে এ রকম কোনো ঘোষণা তিনি দেননি।তখন সব নেতাই জেলে। ঘোষণা দিলে তিনি গ্রেফতার হতেন।দেশব্যাপী সেই হরতাল বাস্তবায়নের শেখ ফজলুল হক মণির নেতৃত্বে সব ছাত্রনেতা মাঠে কাজ করেন।’

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.