আতঙ্কে তিস্তাপাড়ের মানুষ

সারাবেলা রিপোর্ট: পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উজানের এ ঢল সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

এদিকে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা ও উপজেলার প্রায় ১৫টি চরের গ্রাম হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জনপ্রতিনিধিরা জানান, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা অববাহিকার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ১৫টি চর ও গ্রামের পরিবারগুলো বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যা ৬টায় ২৫ ও রাত ৯টায় আরও ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। শুক্রবার সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে তিস্তা পাড়ের মানুষজন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই হিসাব মানতে নারাজ। পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে এলাকাবাসীর দাবি তিস্তা নদীর পানি কম করে হলেও বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অজ্ঞাত কারণে নদীর পানির সঠিক হিসাব প্রকাশ করছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত দুই দিনের চেয়ে নদীর গর্জন অনেকাংশে বেড়ে গেছে। নদীর উথাল পাতাল ঢেউ দূর্বার গতিতে ভাটির দিকে এগিয়ে আসছে।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান জানান, গত দুই দিনের চেয়ে শুক্রবার উজানের ঢলের গতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এলাকার নিচু স্থানে নদীর পানি প্রবেশ করেছে। চরের গ্রামগুলোর ঘরবাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে তার এলাকার ১ হাজার ১৪০ পরিবারের বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। রাস্তার ওপর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হওয়ায় এলাকাবাসী বালুর বস্তা দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামার চর, ফরেস্টের চর, সোনাখুলীর চর ও ভেন্ডাবাড়ি চরে দেড় হাজার পরিবারের বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। দক্ষিণ সোনাখুলী এলাকায় তিস্তা নদীর ডান তীরের প্রধান বাঁধের অদূরে ইউনিয়ন পরিষদের তৈরি মাটির বাঁধ হুমকীর মুখে পড়েছে। বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবেশ করায় দক্ষিণ সোনাখুলী কুঠিপাড়া গ্রামের বসত ঘর ও আবাদী জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এই বাঁধটি বিধ্বস্ত হলে এলাকাটি বিলীন হয়ে যাবে।

খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার বলেন, পূর্ব বাইশ পুকুর ও ছোটখাতা মৌজার ৫ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকেছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, তার এলাকার দক্ষিণ খড়িবাড়ি ও পূর্ব খড়িবাড়ি, একতার চর, টাবুর চর মৌজায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী বানপাড়ায় গ্রাম রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা মনির উদ্দিনের ছেলে আশরাফ আলী ও দিদার রহমান জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই ভয়ের মধ্যে আছি। এই বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু বানপাড়া নয়, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের ২০ হাজারেরও বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি তিস্তা নদীতে তলিয়ে যাবে। আমরা নিজেরাই বাঁশ ও কাঠ ফেলে বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা করছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী জোনের এসডি হাফিজুল হক জানান, বানপাড়া বাঁধে ৬০ মিটার পর্যন্ত ভাঙন পাওয়া গেছে। আমরা ১২০ মিটার পর্যন্ত এই ভাঙন রোধের চেষ্টা করছি। তবে এ বাঁধটি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যার কাজ আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে বলে আশা করা যায়।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/সারাদেশ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.