আমার এক হাতে লেখালেখি অন্য হাতে ব্যক্তিগত জীবন: জুলফিয়া ইসলাম

সারাবেলা প্রতিবেদক: জুলফিয়া ইসলাম, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, কলামে গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ৫০। গানও লিখছেন উদারভাবে। মানুষ আর সমাজ তার ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু। সেই কেন্দ্র থেকেই আজ বিশাল পরিধিতে তৈরি করেছেন নিজের বলয়। সেই পরিধির ভিতর-বাহির নিয়েই আলাপ আজসারাবেলা’র সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জব্বার হোসেন ও সিদ্দিক আশিক।

লেখকের সামাজিক জীবন বলে কিছু থাকে না, অনেকেই এমনটা বললেও আমি তার সঙ্গে মোটেও একমত নই। লেখকের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক জীবন দুই-ই আছে এবং থাকবে। আমার ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছে তা হলো-এক হাতে লেখালেখি অন্য হাতে ব্যক্তিগত জীবন-কথাগুলো বলছিলেন এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জুলফিয়া ইসলাম।

জুলফিয়া একই সঙ্গে উপন্যাস, প্রবন্ধ, গল্প, গান নিয়ে নিজের জগতে সরব রয়েছেন। জানতে চাওয়া হয়েছিল একটি উপন্যাস লিখতে কেমন সময় নেন, তিনি বলেন, কোন একজন ব্যক্তি বা কোন একটি ঘটনা থেকে গল্প মাথায় আসে। গল্পগুলো মাথায় ঘুরতে থাকে। চরিত্রগুলো আমার সঙ্গে সঙ্গে হাটে। একই সঙ্গে দু-তিনটা প্লট প্যারালালই আগায়। যেটা আগে শেষ হয় সেটা-ই উপন্যাস হয়ে ওঠে। আমি সময় বেঁধে উপন্যাস লিখি না। খুব বেশি বাজারি লেখকও হতে চাইনি কখনও ফলে উপন্যাস তার মতো শেষ হয়।

প্রতিবারের মেলার পরিচিত দৃশ্য।

জুলফিয়ার উপনাসের বিষয়বস্তু বেশিরভাগ সময়ই সমাজ ও সম্পর্ক। সাম্প্রতিক সময়ে চারপাশে অনেক অনভিপ্রেত আর সম্পর্কজনিত সংঘাত নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে। জবাবে তিনি বলেন, আমাদের উন্নতি হয়েছে, তবে অগ্রগতি হয়নি। উন্নতির সূচকটা থাকে উর্ধ্বমুখী আর অগ্রগতির সূচকটা সামনের দিকে। বড় বড় ভবন হচ্ছে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এসেছে। জীবনের সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন গ্যাজেট। কিন্তু আমরা চিন্তার দিক থেকে পুরনোই রয়ে গেছি। মেধা-মননে-চিন্তায় যদি অগ্রসরমান না হই, আধুনিক না হই তাহলেতো সেই পিছিয়ে পড়া সমাজেই থেকে যাওয়া ঘটছে।

আরো যোগ করে জুলফিয়া ইসলাম বলেন, প্রেম এখন খুব শর্টকোর্স হয়ে গেছে। সহজ করে বলতে গেলে এখানে মানবিক প্রেমের আবেগের চেয়ে অন্য ইনটেশনই বেশি কাজ করছে। তা নয় তো হরেদরে প্রেম হবেই কেন আবার ভাঙ্গবেই বা কেন?

গানের জগতেও জুলফিয়া ইসলামএক অন্য আলো।দুই বাংলার অনেক খ্যাতিমান গায়ক-ই তার লেখা গান গেয়েছেন। তিনি নিজেও গান গেয়ে থাকেন। প্রেমের গান ‘বনমালী তুমি পরজনমে হইও রাধা’ কে ভেঙ্গে জুলফিয়া নতুন করে লিখেছেন, ‘পরজনমে হতে চাই না রাধা’। প্রেমকে তিনি বিশ্লেষণ করেছেন ভিন্নভাবে, নতুন আঙ্গিকে।

জুলফিয়া বিশ্বাস করেন ইতিবাচকতায় তাই সমাজের ঘোর ঘন অন্ধকারেও আলো দেখেন। তার চরিত্রগুলো হারতে হারতে জিতে যায়। সংগ্রাম করে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। জুলফিয়া বলেন, আমি র‌্যাডিকেলিজমে বিশ্বাস করি না। একদিনে সমাজ বদলে যাবে এমন ভাবি না। মনে করি আমরা একটি প্রক্রিয়ার অংশ। সমাজ একদিনে নেতিবাচক জায়গায় যায়নি। সুতরাং সমাজকে এগিয়েও যেতে হবে ইতিবাচক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। ফলে শেষ পর্যন্ত আমি ইতিবাচক চরিত্র আর গল্পেই আশাবাদী।

বইমেলায় অটোগ্রাফের জন্য ভিড়! জুলফিয়া ইসলামের ক্ষেত্রে এ দৃশ্য পরিচিত। কেমন লাগে যখন কোন তরুণ বা তরুণী এসে বলে, আপনাকে পড়তে ভালো লাগে, কী মনে হয় তখন, তাৎক্ষণিকভাবে? জুলফিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন, বলেন, নিজের ভালো লাগার জন্য লিখি। হয়তো অনেক গল্প অনেকের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়। জীবন তো আসলে এমনই। লেখনীর মাধ্যমে কাউকে যদি আমি সামান্যতম স্পর্শ করতে পারি সেটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। কেউ যখন অটোগ্রাফ নেয় তখন মনে হয় কে আমি? আর সেই মুখটির দিকে চেয়ে থাকি, যে অটোগ্রাফ নিতে এসেছে, বড় মায়া ভরা ভালোবাসার মুখটি।

আজ সারাবেলা/সংবাদ/সাআ/সাক্ষাৎকার/শিল্প সাহিত্য

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.