এরশাদের আলোচিত কিছু উদ্যোগ

সারাবেলা রিপোর্ট: ঘটনার সমারোহে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্কের শীর্ষে থাকাদের অন্যতম জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চলে গেছেন না ফেরার দেশে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্ত থেকে তিনি অসুস্থ ছিলেন। গত ২২ জুন থেকে ৯০ বছর বয়সী এরশাদ সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা হিমোগ্লোবিন স্বল্পতা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন।

এরশাদের যেসব উদ্যোগ পরবর্তীতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নিম্নে এগুলোর মধ্যে থেকে কয়েকটি তুলে ধরা হলো:

১. আশির দশকে প্রশাসন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে উপজেলা পদ্ধতির প্রবর্তন।

২. ১৯৮৮ সালে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা।

৩. আশির দশকে জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করা।

৪. বায়তুল মোকাররমকে জাতীয় মসজিদ ঘোষণা করা।

৫. ১৯৮৩ সালে দেশের সকল মসজিদের পানি ও বিদ্যুতের বিল মওকুফের ঘোষণা করা।

৬. ১৯৮৫ সালে দাখিলকে এসএসসি সমমান করা।

৭. ১৯৮৭ সালে আলিম শ্রেণিকে এইচএসসি সমমান ঘোষণা করা।

৮. হাইকোর্টের সামনে মজা পুকুরটি ভরে সেখানে জাতীয় ঈদগাহ তৈরি করা করা।

৯. রেডিও-টিভিতে আজান প্রচারের ব্যবস্থা করা।

১০. উপজেলা পর্যায়ে আদালত ও পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা করা, যদিও পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে আদালতে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের একাধিক বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ, যা পরবর্তীতে বাতিল হয়ে যায়।

১২. প্রাদেশিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

১৩. দেশের বেশির ভাগ মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করা।

১৪. প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য দেশকে ৮টি ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

১৫. ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য আবাসিক প্লট বরাদ্দ করা হয়।

১৬. সকল সরকারি কর্মচারী, শিল্প-শ্রমিক, শিক্ষক এবং সাংবাদিকদের জন্য শতকরা ৩০ ভাগ হারে মহার্ঘভাতা মঞ্জুর করা হয়।

১৭. রেল যোগাযোগকে সুষ্ঠুতর করার লক্ষ্যে রেলওয়ে বোর্ড-এর বিলুপ্তি করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল এবং রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল নামে দু’টি সংস্থা গঠন করা হয়।

এরশাদ দলের সভা-সমাবেশে দেশের নানা বিষয় নিয়ে নানা-ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। নিম্নে ২০০৬ সালে পল্টন ময়দানে বিশাল জনসভায় দেশ-জাতির উন্নয়নে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি সেই জনসভায় নিজের ভুল-ভ্রান্তির কথা স্বীকার করে জনগনের কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেছিলেন। নিম্নে তার কিয়দাংশ তুলে ধরা হলো:

২০০৬ সালের পয়লা মার্চ রাজধানীর পল্টন ময়দানের জনসভায় এরশাদ বলেছিলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, কাজ করতে গেলে মানুষ মাত্রই ভুল-ত্রুটি হতে পারে। আমিও তার ঊর্ধ্বে নই। ভুল-ত্রুটি আমারও হয়তো হয়েছে। যদি ইচ্ছার অজ্ঞাতে কোনো ভুল করে থাকি তার জন্য আমি এই মহাসমাবেশে দাঁড়িয়ে আপনাদের কাছে- দেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আপনাদের প্রতি আমার আকুল আবেদন, আসুন দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ি। যে সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে তাকে কাজে লাগাতে আসুন আমরা জীবনের বাজি ধরি- ‘হয় করবো- নয়তো মরবো’। আপনারা আমাকে আর একটিবার সুযোগ দিন। আমি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছু বাকি নেই। যত দিন বাকি ততদিন দেহের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও দেশ ও জাতির সেবা করে যেতে চাই।’…

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/রাজনীতি

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.