জুন মাসে তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প, মুক্তিযুদ্ধের গল্প’

রাজধানী মহিলা কলেজে বঙ্গবন্ধুর গল্প বলি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি।

রবিউল ইসরাম রবি: দেশজুড়ে, বছরজুড়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ‘আজ সারাবেলা’ ও ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’। সেই ধারাবাহিকতায় জুন মাসব্যাপি রাজধানীর তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হলো ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’।

জুন মাসের প্রথম অনুষ্ঠানটি ছিল ১০ জুন মিরপুরের রাজধানী মহিলা কলেজে। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুশান্ত সরকার।

অনুষ্ঠানে রাজধানী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বঙ্গবন্ধুর অবদান সম্পর্কে তিনি আলোচনা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের বৈষম্য বাঙালিরা মেনে নিতে চায়নি। দু’দেশের মধ্যে কোন সাংস্কৃতিক মিল ছিল না। বাঙালির নিজস্ব ভাষা রয়েছে। ভূ-খণ্ড রয়েছে। কেন অন্যের অধীন থাকবে। প্রতিবাদ উঠেছিল এই বৈষম্যের। আর যিনি এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানটির সমাপনি বক্তব্য দেন, অধ্যক্ষ অধ্যাপক শিব শংকর সরকার।

১৯ জুন কবি নজরুল স্কুল এন্ড কলেজে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রচার কার্যক্রমের ২য় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। মিরপুরের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাজহার আনাম। অনুষ্ঠানে তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরেন।

কবি নজরুল স্কুল এন্ড কলেজে বক্তব্য রাখছেন আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জব্বার হোসেন।

এই কার্যক্রমের জুন মাসের শেষ আয়োজন ছিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। ইনারা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রশ্ন-উত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়। ৫ম শ্রেনীর মাইশা নামে এক শিক্ষার্থী এই পর্বে বিজয়ী হয়ে পুরস্কার জিতে নেন। পুরস্কারটি তুলে দেন আজ সারাবেলার সম্পাদক জব্বার হোসেন।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারি প্রধান শিক্ষিকা শারমিন সুলতানা বলেন, তোমরা নিশ্চয়ই জানো বঙ্গবন্ধুর ডাকনাম ছিল খোকা। খোকা’র জন্ম হয়েছিল ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ায়। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অধিকারী ছিলেন খোকা। গরিব দুঃখী, অসহায়দের পাশে থেকেছেন, আন্দোলন সংগ্রামে এগিয়ে ছিল স্কুল জীবন থেকেই। সে সময় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক টুঙ্গিপাড়ার মিশনারী স্কুল পরিদর্শনে যান, ঐ স্কুলে পড়তেন শেখ মুজিবুর রহমান। তখন ছোট্ট খোকা ফজলুল হক’কে সবার সামনে গিয়ে বলেছিলেন, আমার স্কুলের ছাদ ভাঙা এটি মেরামত করা প্রয়োজন এ ব্যাপারে আপনি ব্যবস্থা নিন।

ইনারা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে শিক্ষার্থী ও আলোচকবৃন্দ।

এ থেকেই বোঝা যায় বঙ্গবন্ধু ছোটবেলা থেকেই সৎ সাহসী, ছিলেন অধিকার আদায়ে সোচ্চার। পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যে নানা আন্দোলন সংগ্রামে তাকে প্রায় ১৪ বছর জেলখানায় কাটাতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমগ্র বাঙালিদের একত্রিত করেছিলেন। এনে দিয়েছেন স্বাধীনতা, মুক্ত করেছেন বাঙালিদের পরাধীনতার গ্লানি থেকে।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠান শেষে ‘আজ সারাবেলা’র পক্ষ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের হাতে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, সিআরআই থেকে প্রকাশিত তিন পর্বের কমিক নভেল ‘মুজিব’ ও ‘মগ’ তুলে দেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জব্বার হোসেন এবং এই কার্যক্রমের প্রতিটি অনুষ্ঠানই সঞ্চালনা করেন তিনি।

আয়োজিত কার্যক্রমের সহযোগিতায় ছিল সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/মুক্তিযুদ্ধ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.