রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

সারাবেলা রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফল প্রকাশের পর বেশ কিছু কেন্দ্রে ‘অস্বাভাবিক’ ভোটার উপস্থিতির বিষয়টি সামনে চলে আসায় ওই নির্বাচন বাতিলের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছে বিএনপি।

বুধবার (১০ জুলাই) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ হস্তক্ষেপ চান।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের আবেদন, পৃথিবীর ইতিহাসে এই অকল্পনীয়, ভয়াবহ ভোট চুরি ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন বাতিল করুন। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিশন করে এই অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসাবে ভোট বঞ্চিত ভোটাররা আপনার সুবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, ৩শটি আসনে ৪০ হাজার ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি আসনের ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে, ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ৩৫৮টি কেন্দ্রে, ৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে ৫১৬টি কেন্দ্রে। অর্থাৎ ১৪১৮টি ভোটকেন্দ্রে ৯৬ শতাংশ থেকে ১শ শতাংশ ভোট পড়েছে। মূলত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩শটি আসনেই ভোট জালিয়াতি ছিল নজীরবিহীন ও বিস্ময়কর।’

তিনি বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের আগের রাতে গোটা দেশে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার দালিলিক প্রমাণ আওয়ামী লীগের অনুগত ও গভীর আস্থাভাজন নির্বাচন কমিশন নিজেই প্রকাশ করেছে। নির্বাচনের ছয় মাস পরে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্র-ভিত্তিক যে ফলাফল প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে, কোনো নির্বাচনই হয় নাই বাংলাদেশে।’

নির্বাচন কমিশন ৩০ ডিসেম্বরের ভোট নিয়ে ভোটারদের সাথে ফান করেছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘মধ্যরাতে ভোট ডাকাতির অভিনব পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে জালিয়াতিতে সহায়তা করার জন্য অবশ্যই সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্টদের বিচার হওয়া উচিত। এই নির্বাচন কমিশনের সাংস্কৃতিক অভিরুচির পরিসর অত্যন্ত সংকীর্ণ বলেই মিথ্যার ওপর বৈধতার সিল মেরেছে।

খালেদা জিয়াকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকার নীলনকশা তৈরি করেছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘তাকে মিথ্যা মামলায় দেড় বছর বন্দি রাখা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। তার জামিনে এখন সরাসরি বাধা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আদালতে হস্তক্ষেপ করার পাশাপাশি দেশনেত্রীর আইনজীবীদেরও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে একজন নাগরিক হিসেবে সংবিধান প্রদত্ত আইনগত অধিকার থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর থেকে জুলুম আর কী হতে পারে ? এখানেই প্রমাণ হয়, কর্তৃত্ববাদী সরকারের হাতের মুঠোয় থাকে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান।

আজ সারাবেলা/সংবাদ/সিআ/রাজনীতি

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.